
আমাদের আজকের আলোচনায় আরও কয়েকটি নাম বাদ দেওয়া মোটেও ঠিক হবে না। কানাডার কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন, রোমানিয়ার ঔপন্যাসিক মিরচা কার্তারেরেস্কু, মেক্সিকান লেখক ক্রিস্তিনা রিভেরা গারসা, আর্জেন্টিনার সেসার আইরা এবং স্পেনের এনরিকে ভিলা-মাতাসও সাম্প্রতিক নোবেল-আলোচনায় আছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সাহিত্যিক পরিসর আলাদা। তাঁদের দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কাজ, অনুবাদে উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পাঠক সমালোচনার কারণে তাঁরাও মুরাকামি, ক্যান শুয়ে, রুশদি, অমিতাভ ঘোষ ও মার্গারেট অ্যাটউডদের পাশে অবস্থান করছেন। তবে মনে রাখা দরকার, এগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন তালিকা নয়। আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহল, গণমাধ্যম ও নানা পূর্বাভাসে উঠে আসা নাম।
শেষ পর্যন্ত ৮ অক্টোবর কে পুরস্কার পাবেন? সেটি জানা যাবে কয়েক দিনের মধ্যেই। তার আগপর্যন্ত অনুমান চলবে। কেউ ভূগোল দেখবেন, কেউ রাজনীতি, কেউ ভাষা, কেউ সাহিত্যিক উত্তরাধিকার দেখবেন।
আর হয়তো শেষ পর্যন্ত এমন একজনের নাম ঘোষণা হবে, যাঁর কথা এই মুহূর্তের আমাদের কোনো আলোচনাতেই নেই।
সেটাই নোবেলের পুরোনো রহস্য।
সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যও বোধ হয় এটাই। একটা পুরস্কার একজন লেখককে পাঠকের সামনে নিয়ে আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত লেখকের লেখনী দ্বারাই তাঁর জায়গা ঠিক হয়। নোবেল ঘোষণা শেষ হওয়ার পর পাঠক যখন সেই লেখকের বই খুলে বসবেন, তখনই পুরস্কারের আসল যাত্রা শুরু হবে।
বিপাশা চক্রবর্তী
প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক