
যুক্তরাষ্ট্র ভাবতে পারে যে ইরানের ভয়কে কাজে লাগিয়ে চাপ দিয়ে তাদের নতি স্বীকার করানো যাবে। কিন্তু এতে তেহরানের আসল মনোভাব ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
যুদ্ধে স্বজন ও সহকর্মীদের হারিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আরও কঠোর। শত্রুকে চিরতরে পরাস্ত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান এখন প্রতিনিয়ত সংঘাত বাড়ানো এবং আক্রমণাত্মক থাকার কৌশল নিয়েছে। তেহরান কোনো সমঝোতায় তো যাবেই না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থনীতি ধ্বংস ও জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
সেই সঙ্গে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়ানো, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো, এমনকি প্রতিবেশীদের ওপর পদাতিক হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি দখলের চেষ্টাও তাদের কৌশলে রয়েছে।
দুটি পক্ষই যদি সাময়িক চুক্তিতে পৌঁছায়, তবু সেই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ তেহরানের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন সময় নিয়ে শক্তি গুছিয়ে আবার আক্রমণ করবে। তাই মার্কিন উসকানির জবাব দিতে বা উসকানি ছাড়াই হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।
সহজ কথায়, তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকাকে ওয়াশিংটনের জন্য এতটাই যন্ত্রণাদায়ক করা, যাতে তারা সৈন্য প্রত্যাহার করতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে এবং তেহরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।