
Published :
06 Oct 2026, 02:55 PM
গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকার বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পহেলা অক্টোবর পর্যন্ত প্রাচীন অলিম্পিয়ার ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘অলিম্পিয়া ফোরাম ২০২৬’-এর একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তিনি বিষয়টি সামনে আনেন।
তিন দিনব্যাপী ফোরাম যৌথভাবে আয়োজন করে পশ্চিম গ্রিস অঞ্চল, প্রাচীন অলিম্পিয়া পৌরসভা ও গ্রিন ফান্ডসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সংস্থা।
‘দ্য ডিপ্লোম্যাটিক পার্সপেক্টিভ: দ্য ফিউচার অব অ্যাগ্রিকালচারাল প্রোডাকশন–লেবার মোবিলিটি, স্কিলস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপস’ শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বর্তমান বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অলিম্পিয়া ফোরামের সভাপতি লেফতেরিস ভারউক্সিস সেশনটি সঞ্চালনা করেন।
আলোচনায় রাষ্ট্রদূত সুমনা জানান, দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী গ্রিসে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে নানা প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে গত দুই বছরে বাস্তবে গ্রিসে আসতে পেরেছেন ৫০০ জনেরও কম কর্মী।
বিশেষ করে ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে গ্রিসের এন্ট্রি ভিসার জন্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভারতে যেতে হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল করে তোলে। শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এই প্রশাসনিক জটিলতাগুলো দূর করে প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে শ্রমবাজারে তৈরি হওয়া চাপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “শ্রমিকের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সুশৃঙ্খল ও কার্যকর অভিবাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। এসময় শুধু শ্রমিক আদান-প্রদান নয়, বরং কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে কর্মীরা গ্রিসের কৃষি খাতের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।”
গ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকারের কথা জানান রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।