
খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলেকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ জানান।
নিহত আক্তার ঢালী (৫৫) ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
১৫ অগাস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছিল।
জয় ঢালীর বিরুদ্ধে রূপসা থানায় বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। এ ঘটনায় জয় ঢালীর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর রূপসা উপজেলায় ১২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় মোটরসাইকেলে করে এসে হেলমেট পরা লোকজন তাকে গুলি করে।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেঞ্চের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।
আক্তার ঢালীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রোববার খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে চায়ের দোকানে একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৩৩টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গুলিতে।
পুলিশের ভাষ্য, জেলার নয়টি থানায় হওয়া ৩৩টি হত্যা মামলার মধ্যে পারিবারিক কারণে ১১টি, মাদককে কেন্দ্র করে তিনটি, চুরি-ছিনতাইকে কেন্দ্র করে তিনটি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি এবং আর্থিক কারণে দুটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ৩৩টি হত্যা মামলার মধ্যে ২৫টির রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে একাধিক টিম কাজ করছে। সন্ত্রাসীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা টিম মাঠে তৎপর রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।