
মেয়েকে স্কুলে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে বেসরকারি ‘অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের’ পুরান ঢাকা ক্যাম্পাসের শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক অভিভাবক।
ঘটনার পর থেকে তাসনিম আজাদ সুপ্তি নামের ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ইতোমধ্যে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে।
গেন্ডারিয়া থানায় করা এ মামলায় ঘটনার দিন হিসেবে ৩০ অগাস্টের কথা বলা হয়েছে। এতে সুপ্তির সঙ্গে দুই-তিনজনকে করা হয়েছে ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামি।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সোহানুর রহমান জানান, মামলার এজাহার আদালতে আসে ১২ সেপ্টেম্বর। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয় শিশুটি। মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা বিপাশা কুণ্ডু বলেন, “ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও পেয়েছি, সেখানেও নির্যাতনের চিত্র দেখা গেছে। আসামি পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এসআরবিকেও রিকুইজিশন দিয়েছি। আশা করছি, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।”
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিশুটির মা আফরিনা হাসনাত বলেন, “আমার মেয়েটা বেঞ্চের পেছনের দিকে ফিরে টিফিন বক্সটা রাখছিল। ওই সময় ওই শিক্ষক (সুপ্তি) শ্রেণিকক্ষে যান। এটাই ছিল আমার মেয়েটার অপরাধ! তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
“ওই টিচার বোর্ডে কয়েকটি শব্দের অর্থ শিক্ষার্থীদের খাতায় লেখার জন্য বলেন, কিন্তু আমার মেয়েকে কিছু লিখতে দেন না। লিখতে গেলে তার খাতা কেড়ে নেন। মেয়েটা অন্যের খাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে চুপিচুপি লিখছিল। তখন খাতাটি ব্যাগের মধ্যে রাখতে নির্দেশ দেন সুপ্তি। লেখার কারণে পেনসিল দিয়ে হাতের মধ্যে চাপ দেন; এতে ওর হাত লাল হয়ে যায়।“
আফরিনা বলেন, “আমাকে রাতে পড়া দেখাতে হবে, তাই ও ওর বইয়ের একটি সাদা কাগজে শ্রেণির কাজ লিখতে শুরু করে। এটা দেখে শিক্ষিকা আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন। ক্লাস থেকে অন্য শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ক্লাসরুম আটকে মেয়েটাকে নানা ভয়ভীতি দেখান। সাদা কাগজটা টেনে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে দেন। পুরো ক্লাস মেয়েকে দাঁড় করিয়ে রাখেন।”
শিশুটির মা আরও বলেন, “ছুটির ঘণ্টা বাজলেও মেয়েটিকে ক্লাসে আটকে রাখা হয়। আমার মেয়েটা দাঁড়িয়ে থেকেই তার কাছে কেড়ে নেওয়া খাতা ফেরত নিয়ে লিখতে শুরু করে। তখন সুপ্তি পেনসিল নিয়ে মেয়েটার দিকে অগ্রসর হয়ে ‘চোখ তুলে নেব’ বলে তার ডান চোখের নিচে খোঁচা দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। তার এমন টর্চারে আমার মেয়েটা আতঙ্কে প্রস্রাব করে দেয়। তারপরও তিনি ওকে নির্যাতন করেন। সে বিষয়টি স্কুলের অ্যাডমিন ঈশানাকে জানায়, এজন্য সুপ্তি আমার মেয়েকে হুমকি-ধমকি দেন।”
ক্যাম্পাসের ভাইস প্রিন্সিপাল রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনাটি জানার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার চিত্র সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। ৪৭ মিনিট বাচ্চাটাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে—এটাই তো তাকে টার্মিনেট করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
“গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ক্যাম্পাসে এসেছিল, আমরা কো-অপারেট করেছি। যা যা চেয়েছে, তাদের সবকিছুই সরবরাহ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বাচ্চার মায়ের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। চেয়ারম্যান, এমডিসহ স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সরি বলেছে। উনিও বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন, তারপরও মামলা করেছেন। আমরা ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করেছি, কোনো কিছুতে লুকোচুরি করিনি।”
রুহুল আমিন বলেন, “বাচ্চাটা অনেক মেধাবী, তার কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করা যায়। তাকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”