• শনি. অক্টো. 3rd, 2026

তানভীর মোকাম্মেলের দুই সিনেমা বাদ পড়েছে ‘হালনাগাদ প্রক্রিয়ায়’: বিমান

Bytrendnews

অক্টো. 3, 2026


তানভীর মোকাম্মেলের দুই সিনেমা বাদ পড়েছে ‘হালনাগাদ প্রক্রিয়ায়’: বিমান

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইটে তানভীর মোকাম্মেলের বিখ্যাত দুই চলচ্চিত্র ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ প্রদর্শন বন্ধ করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং এটি ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) হালনাগাদ করার একটি নিয়মিত ‘কারিগরি ও লাইসেন্সসংক্রান্ত’ প্রক্রিয়া।

সম্প্রতি তানভীর মোকাম্মেলের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমান তাদের ফ্লাইটে তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছিল। তবে সম্প্রতি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তার ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ চলচ্চিত্র দুটির প্রদর্শন বন্ধ রাখা হয়েছে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘লালসালু’ চলচ্চিত্রটি আটটি ক্ষেত্রে এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘চিত্রা নদীর পারে’ চলচ্চিত্রটি সাতটি ক্ষেত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। দুটি চলচ্চিত্রই দেশে ও বিদেশে সমালোচক ও দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানভীর মোকাম্মেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ বিমান আমার মোট নয়টা চলচ্চিত্র দেখাত। সাতটা কাহিনীচিত্র ও দুটো প্রামাণ্যচিত্র। কাহিনীচিত্রগুলো হচ্ছে ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘চিত্রা নদীর পারে’, ’লালসালু’, ‘লালন’, ‘রাবেয়া’, ‘জীবনঢুলী’ ও ‘রূপসা নদীর বাঁকে’। আর প্রামাণ্যচিত্র দুটো হচ্ছে ‘১৯৭১’ ও ‘সীমান্তরেখা’। কিন্তু ২০২৪ সালের পর বিমান আমার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সবগুলো ছবি বাদ দেয়।

“২০২৫ সালে লালন ছবিটাকেও বাদ দিয়েছিল। কিন্তু তখন সামাজিক গণমাধ্যমে কিছু প্রতিবাদ ওঠায় লালন ছবিটা আবার দেখানো শুরু করে। তবে কী এক অজ্ঞাত কারণে নতুন করে বাদ দেয় লালসালু ও চিত্রা নদীর পারে ছবি দুটো। ঠিক কী কারণে তারা এ দুটো চলচ্চিত্র বাদ দিয়েছে তা আমার অজানা।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওটার যে ব্যাখ্যাটা, ওইটা আমি সংশ্লিষ্ট শাখায় জিজ্ঞেস করেছিলাম। তো উনারা একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

“ওই সেকশন থেকে আমি জানতে পারলাম যে এই মুহূর্তে তানভীর মোকাম্মেল সাহেবের ‘লালন’ দেখানো হচ্ছে ফ্লাইটে। আসলে সব কনটেন্টই তো কিনে দেখাতে হয়, তাই না? নাথিং ইজ ফ্রি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লিখিত ব্যাখ্যায় বিষয়টিকে ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টের (আইএফই) নিয়মিত কনটেন্ট আবর্তন বা পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ওই বার্তায় বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের উড্ডয়নকালে প্রদর্শিত সিনেমা, টিভি শো কিংবা অডিও তালিকা সাধারণত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিবর্তন করা হয়। মূলত লাইসেন্সিং চুক্তি, এয়ারক্রাফটের ডিজিটাল স্টোরেজ সীমাবদ্ধতা এবং নিয়মিত যাত্রীদের চাহিদা পূরণের স্বার্থেই কন্টেন্ট পরিবর্তন করতে হয়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিমান সরাসরি এসব চলচ্চিত্রের মালিক নয়; তারা মূলত কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (সিএসপি) মাধ্যমে মিডিয়া ব্রোকারদের কাছ থেকে সাময়িক প্রদর্শনের স্বত্ব বা লাইসেন্স কিনে থাকে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে আইনগতভাবেই সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট সার্ভার থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য থাকে সংস্থাটি।

বিমান বলছে, এ ছাড়া উড়োজাহাজের ভেতরের ফিজিক্যাল সার্ভারের স্টোরেজ সীমিত হওয়ায় নতুন কন্টেন্ট যুক্ত করতে পুরনো সিনেমাগুলো মুছে ফেলতে হয়। নিয়মিত ও বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের নতুন বিনোদন অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্যও এই পরিবর্তন আনা জরুরি।

বিমান বলছে, সিএসপি প্রোভাইডারদের মাধ্যমে বিমানের নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারের জন্য ফাইল প্রসেসিং, এডিটিং ও ট্রান্সকোডিং শেষে বিমান মাটিতে থাকা অবস্থায় ডেটা লোড করা হয়। অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি এই প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত চক্র বা সময়সূচি মেনে নিয়মিত বিরতিতে কন্টেন্ট পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।