
এর বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসে মেহেরপুরে ডিএপি ও টিএসপি মিলিয়ে বরাদ্দ এসেছে ২ হাজার ১৯৭ মেট্রিক টন। এই বরাদ্দের পুরোটাই আমন চাষের জমিতে দেওয়া হলেও কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, তা যথেষ্ট হবে না। অথচ একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জমিতেও সার দিতে হচ্ছে কৃষকদের।
মেহেরপুর জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় প্রায় ৫৮ হাজার ৫০৭ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। বেশির ভাগ জমিতে বছরে একাধিক ফসল আবাদ হয়। আমনের পাশাপাশি সবজির আবাদও বেশি হওয়ায় বছরের এই সময়ে সারের চাহিদা বেড়ে যায়।
শীতকালীন সবজির জমিতে কত সার প্রয়োজন
আমনের পাশাপাশি মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। কোথাও কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করছেন, কোথাও চারা রোপণ করা হয়েছে, কোথাও চারা গাছের আকৃতিতে রূপ নিয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হচ্ছে এখন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে ৪ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে (৩৪ হাজার ৭১৩ বিঘা)।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, সবজি চাষের জমিতে বিঘাপ্রতি ৩০ কেজি ডিএপি বা টিএসপি ব্যবহার করা হয়। সেই হিসাবে ৩৪ হাজার ৭১৩ বিঘা জমির জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ হাজার ৪১ মেট্রিক টন ডিএপি ও টিএসপি।
মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জামিরুল ইসলাম এবার ৪ বিঘা জমিতে ফুলকপি এবং ১ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘এক বিঘা ফুলকপির জমিতে ৪০০ কেজি টিএসপি সার লাগবে। এখনো ৫০ কেজিও সংগ্রহ করতে পারিনি।’ এই কৃষকের অভিযোগ, সাধারণত মাসের শুরুতে ডিলারের দোকানে সার বিতরণ করা হয়। ওই সময় কৃষকেরা মাঠে কাজ করেন। পরে নিতে গেলে অনেক সময় সার পাওয়া যায় না। আবার অনুমোদনহীন দোকানে টিএসপি কিনতে গেলে ৫০ কেজির এক বস্তা ২ হাজার টাকা চায়। এক বস্তা টিএসপি সারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা।