
হাজিমে ইশিই যে বিমানে এসেছিলেন, সেখানে ছিল ছিনতাইকারীদের দাবি করা মুক্তিপণের ৬০ লাখ ডলার (তিন বস্তায় ভরা) এবং তাদের ৯ জন ‘সহযোদ্ধার’ মধ্যে ৬ জন ছিলেন। বাকি তিনজন ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে যোগ দিতে রাজি হননি।
জাপানের সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী তাঁর বইয়ে লিখেছেন, জাপান সরকারের প্রতিনিধিদল ঢাকায় যাচ্ছে—এ খবর পেয়েই ছিনতাইকারীরা আলোচনায় আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন এ জি মাহমুদের (তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান) সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে থাকে। হাজিমে ইশিইর সঙ্গে যখন এ জি মাহমুদের প্রথম দেখা ও পরিচয় হয়, তখন তিনি কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন।
হাজিমে ইশিইর উপস্থিতিতে এ জি মাহমুদ ছিনতাইকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে ৫২-৫৩ জন জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু এ জি মাহমুদ আরও বেশিসংখ্যক যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। কিন্তু ছিনতাইকারীরা কিছুতেই এ ব্যাপারে রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২ জনকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়।
একপর্যায়ে হাজিমে ইশিই নিজেই মাইক্রোফোন নিয়ে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। জাপানি ভাষায় তিনি ছিনতাইকারীদের সব যাত্রীর বিনিময়ে তাঁকে জিম্মি হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তাঁর সেই প্রস্তাব ছিনতাইকারীরা গ্রহণ করেনি। বরং বিমানটি নিয়ে রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গায় চলে যায়। তখন বাধা দেওয়া হলে ককপিটের জানালা খুলে একজন ছিনতাইকারী পিস্তল বের করে চারটি গুলি ছোড়ে। গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুজন সৈনিক আহত হন।