
অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পার্সিয়ান জাতের একটি অন্তসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগে ঢাকার গুলশানের বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিক ও সেখানকার দুই চিকিৎসককে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
পালক আবিবুর রহমানের তরফে এ নোটিস পাঠিয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পোষা বিড়ালের মালিক আবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার আইনজীবীর মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিস রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়েছেন।
“লিগ্যাল নোটিসে সাতদিনের মধ্যে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পার্সিয়ান জাতের অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর জন্য মালিক লাবণ্যকে—দায়ী দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে নোটিস পাঠানো তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
যাদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন—বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিক লাবণ্য, ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক সোলাইমান হোসাইন ও জুবায়ের।
নোটিসে বলা বলা হয়, ২০২০ সালের ১ মে জন্মের পর থেকে বিড়ালটিকে বিএসিসিতে চিকিৎসা করিয়ে আসছেন আবিবুর রহমান। বিড়ালটি গর্ভবতী কি না তা পরীক্ষা করানোর জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় তিনি বিএসিসিতে যান। সেখানে ডা. সোলাইমান হোসাইন পরীক্ষা করে বিড়ালটি সন্তানসম্ভবা বলে জানান। গর্ভে দুই বা ততোধিক ছানা আছে জানিয়ে চিকিৎসক ওষুধ লিখে দেন।
পরে ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে বিড়ালটির দ্রুত শ্বাস নেওয়া, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, চোখ ভেজা এবং খাবার ও নড়াচড়ায় অনীহা দেখা দেয়। বিষয়টি জানিয়ে পালক দুপুরে বিএসিসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।
সন্ধ্যায় বিড়ালের অসুস্থতার ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডা. জুবায়ের ভিডিও কলে বিড়ালটির অবস্থা দেখেন।
নোটিসে বলা হয়, তখন ডা. জুবায়ের বলেন, “এটা এমন কিছু নয়, ওর বাচ্চা হবে, ওর পাশে কিছু কাপড় দিয়ে রাখেন, রুমটা অন্ধকার করে দিন, ও বাচ্চা দেবে”। জুবায়েরের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন পালক।
কিন্তু বিড়ালটির অবস্থা আরও খারাপ হলে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে বিড়ালটির তখনকার অবস্থা বোঝানোর জন্য পালক ভিডিও পাঠান এবং ফোন করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে রাত সাড়ে ১১টায় বিড়াল নিয়ে বিএসিসিতে যান আবিবুর। রিসিপশন কক্ষে ডা. শিরোপা বিড়ালটিকে অক্সিজেন দিলে শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি হয়। এ চিকিৎসক বিড়ালটিকে একটি ইনজেকশন দিলে বিড়ালটি শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
তখন প্রাণীটিকে আরও সুস্থ দেখাচ্ছিল। কয়েক মিনিট পর ডা. জুবায়ের অক্সিজেন ছাড়াই বিড়ালটিকে ভেতরে নিয়ে যান। ৪-৫ মিনিট বাদে ডা. শিরোপা দৌড়ে এসে জানান, বিড়ালটি মারা যাচ্ছে। তখন নোটিসদাতা ডা. জুবায়েরের কাছে বিড়ালটি মারা যেতে দেখেন। ইনজেকশন দেওয়ার পর আধাঘণ্টা পর্যবেক্ষণে না রেখে আগেই ডা. জুবায়ের চিকিৎসা শুরু করায় বিড়ালটি মারা যায় বলে নোটিসে বলা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসিসিতে গিয়ে মালিক লাবণ্যর কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান পালক আবিবুর।
নোটিসে বলা হয়, লাবণ্য অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করলেও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানান।