
টি-শার্ট আর হাফ প্যান্টস পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়া এক ক্রীড়া প্রশিক্ষককে স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে কমিটি করেছে পুলিশ।
ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার অভিযোগটি রোববার ফেইসবুকের মাধ্যমে তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ নামে ওই প্রশিক্ষক।
ফেইসবুকের মাধ্যমে আলোচনায় আসা এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর এসেছে।
এ বিষয়ে এমআরটি পুলিশের নায়েক রিয়াদ হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদের একজনকে প্রধান করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক সোহেল চৌধুরি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনার ভিডিও সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা কী, জানার চেষ্টা চলছে। এখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের দোষ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাজ্জাদ হোসেন সিগ্ধ তার ফেইসবুকে ‘হায়রে বাংলাদেশ’ বলে ৩৭৫ শব্দের পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে ভিডিও এবং দুটি ছবি রয়েছে।
‘সাধারণত নেগেটিভ কিছু লিখেন না’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু সিচুয়েশনে পড়তে হয় যে লিখতেও খারাপ লাগে।”
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশের আচরণ সম্পর্কে তিনি লিখেন, “সকালে রমনা পার্কে ট্রেনিং করানোর পর ফার্মগেটে একটা কাজ শেষ করে জিয়া উদ্যানে ট্রেনিং করার জন্য মেট্রোতে টিকিট কেটে যখন ভিতরে ঢুকবো, তখন আমাদের প্রাণের পুলিশ সদস্য ভিড়ের ভেতর থেকে আমাকে ডেকে জাস্ট কোনো কথা বার্তা নেই ধমক দিয়ে (বলেন), ‘এই, আপনি এইসব কী ড্রেস পড়েন, এইসব অশ্লীল ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না’ !”
পুলিশের এই মন্তব্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমার এক মিনিট লাগছে ব্যাপারটা হজম করতে, ব্যাপারটা আসলে ঘটলো কী?”
সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন, তখন তিনি ওই পুলিশ সদস্যে কাছে অশ্লীলের ব্যাখ্যা চান।
টিশার্ট আর হাফ প্যান্টস পরে মেট্রোতে চড়া কোন আইনে নিষেধ আছে, সেটাও জানতে চান বলে ফেইসবুকে লিখেছেন।
“কিন্তু ওনারা জাস্ট হাসতে হাসতে হ্যারাস করতে লাগলো,” ভাষ্য এই ক্রীড়া প্রশিক্ষকের।
তার পরের ঘটনার বিষয়ে তিনি লিখেছেন, “তাদের উপরের লোকদের ডাকলে তারা আরও একধাপ উপরে যে আমার এরা যা বলছে, নাকি একদম ঠিক বলছে, আপনি এইসব পড়ে মেট্রোতে যাইতে পারবেন না, এমন কি সবাই মিলে ছবি তুলতিছে।
“তবে আমিতো এভাবেই যাবো, তাই আমিও নাছোড়বান্দা এবং ওনাদের বাধ্য করাই উপর মহলের সাথে কথা বলতে কোথায় আমার প্রবলেম।”
এরপর প্রায় ৪০ মিনিট আটকা থাকার পর তাদের উপর মহল থেকে অনুমতি আসে মেট্রোতে যাওয়ার বলেন সাজ্জাদ হোসেন।
পুলিশের এমন আচরণে সাজ্জাদ হোসেনের মন্তব্য, “তাদের ভেতর বিন্দু মাত্র অনুশোচনা নেই। চেহারা দেখলেই দেখবেন জাস্ট মজা নিচ্ছে।”
৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে সাজ্জাদ হোসেনকে পুলিশ সদস্যের সামনে দাড়িয়ে ‘দৌঁড়াতে যাচ্ছিলাম’ বলতে শোনা যায়। এসময় পুলিশ সদস্য বলেন ‘চুলটা ঠিক করি।
এসময় সাজ্জাদ হোসেন নিজের পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যের বলেন, “উল্টাপাল্টা আমার সাথে কথাবার্তা বলতে আসবেন না।”
এসময় দুই পুলিশ সদস্যের একজন কথা বলতে চান। এরই মধ্যে তিনি বলেন, “কোথায় লেখা আছে যাওয়া যাবে না, দেখান, চলে যাব। আমি এখন পার্কে যাচ্ছি দৌঁড়াইতে। কোথায় লেখা, হাফ প্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়া যাবে না?”
এসময় পুলিশ সদস্য বলেন, “আপনাকে বলা হয়নি? হাফ প্যান্ট পরা যাবে না।”
এসময় সাজ্জাদকে আবার বলতে শোনা যায়, “কোথায় আছে, হাফ প্যান্টস পরা যাবে না। উনি আমাকে চোখ রাঙ্গিয়ে বলেছে।”
এসময় পুলিশ সদস্য বলেন, “এটা একবারে শালীনতার মধ্যে পড়ে না। এর জবাবে সাজ্জাদ বলেন, কোনটা শালীনতা কোনটা না, আপনার নিয়মে লেখা আছে?
পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, “আমার এখানে দায়িত্ব।”
তখন সাজ্জাদ জানতে চান, “কী দায়িত্?”
এরপরেই পুলিশ সদস্যের ভিডিও করার বিষয়ে বলেন, কোথায় ভিডিও পাঠাবেন, পাঠান আমারও লোক আছে।
ভিডিওতে দেখা যায় সেখানে দুই পুলিশ সদস্য থাকলেও একজন চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর আসেন।
সেখানে থেকে যাওয়া দুজনের মধ্যে যাকে ভিডিওতে ফোনে কথা বলতে দেখা যায়, তার নাম জাকির হোসেন।
একই পদমর্যাদার আরেকজন রিযাদ হাসান বলেন, তদন্ত কমিটিতে এসপি আবু আশরাফ সিদ্দিকীকে প্রধান করা হয়েছে।