
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে নিউ ইয়র্কে বিনিয়োগ সম্মেলন করেছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে গত বৃহস্পতিবার ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও’ শীর্ষক এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে গ্লোবাল ইনভেস্টরস, উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা অংশ নেন বলে বাংলালিংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে চালু হওয়া ভিওনের ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও’ উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারত্ব। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভিওন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে মোট ১০০ কোটি ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির।
নিউ ইয়র্কের সম্মেলনটি এ উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত প্রথম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন বলে বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনিসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল ইনভেস্টর ও উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ব্ল্যাকরক, রথসচাইল্ড, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান তেরজিওগ্লো বলেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছে। এ সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলারের এফডিআই আনতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরকেও যুক্ত করছি আমরা।”
“বাংলালিংকের মাধ্যমে কানেক্টিভিটি থেকে ডিজিটাল সেবায় কার্যক্রম বাড়াচ্ছি। ফলে অর্থ পরিশোধ, বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে সবার জন্য আরও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
ভিওনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা অগি কে ফাবেলা বলেন, “যেসব দেশের ডিজিটাল সম্ভাবনা এখনো গ্লোবাল ইনভেস্টরদের যথাযথ নজরে আসেনি, সেসব দেশগুলোতে বিনিয়োগ করে আসছে ভিওন। বাংলাদেশে ১৭ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন। দেশটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ এবং এর ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য বিনিয়োগকারীদের আগে আমরাই এখানে বিনিয়োগ করছি, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার প্রতিফলন।”
সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের অংশীদারত্বে নতুন ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অনুমোদনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি সপ্তাহেই পৃথকভাবে নিজেদের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্ত পে’ চালু করেছে বাংলালিংক। এ সেবার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, মার্চেন্ট ও বিল পেমেন্ট এবং অর্থ বিতরণ করা যাবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলালিংকের রূপান্তরের যাত্রায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিউ ইয়র্কে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করার মাধ্যমে ভিওন বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।