• রবি. সেপ্টে. 27th, 2026

টি এস এলিয়ট: তিন নারী, এক অস্থির জীবন

Bytrendnews

সেপ্টে. 27, 2026


শেষ দৃশ্য

১৯৬৫ সালের ৪ জানুয়ারি লন্ডনে মারা যান টি এস এলিয়ট। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

পেছন ফিরে তাঁর জীবন দেখলে বিস্মিত হতে হয়। একদিকে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’, ‘দ্য হলো মেন’, ‘অ্যাশ-ওয়েডনেসডে’ ও ‘ফোর কোয়ার্টেটস’—বিশ শতকের কবিতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। অন্যদিকে বিড়ালদের নিয়ে মজার ছড়া। একদিকে দর্শনের ছাত্র, অন্যদিকে ব্যাংকের কর্মচারী ও প্রকাশক। একদিকে কঠিন সাহিত্য সমালোচক, অন্যদিকে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ছড়া লেখা রসিক মানুষ। একদিকে ভাঙা দাম্পত্য, অন্যদিকে জীবনের শেষ দিকে পাওয়া শান্ত সংসার। আর তাঁর কবিতার দীর্ঘ যাত্রাটিও কম বিস্ময়কর নয়।

শুরুতে আছে নিঃসঙ্গতা। আছে আত্মসংশয়। আছে যুদ্ধোত্তর সভ্যতার ক্লান্তি। আছে ভাঙা বিশ্বাসের ধ্বংসস্তূপ। তারপর ধীরে ধীরে আসে ধর্ম, সময়, স্মৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধান।

সম্ভবত এখানেই টি এস এলিয়টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তিনি শুধু একটি ভেঙে পড়া পৃথিবীর কবি নন; তিনি সেই ভাঙনের মধ্যেও অর্থ খুঁজতে থাকা মানুষের কবি।

আর সেই কারণেই ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর অনুর্বর ভূমি থেকে ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এর আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ পথচলা আসলে একজন কবির নিজের ভেতরের যাত্রারও ইতিহাস।

যে কবি একদিন অনুর্বর ভূমির কথা লিখেছিলেন, জীবনের শেষ পর্বে এসে তাঁর নিজের জীবনেই যেন কিছুটা বসন্ত ফিরে এসেছিল। আর তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একজন কবিকে বুঝতে হলে শুধু তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতার দিকে তাকালেই হয় না; দেখতে হয় তাঁর জীবনের বৈপরীত্যগুলোও।

সেখানে ভাঙা পৃথিবীর কবির পাশে হঠাৎ দেখা যায় কয়েকটি বিড়ালকে। আর সেই দৃশ্যটিই হয়তো এলিয়টকে আরও মানবিক করে তোলে।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।