
কিছু কণ্ঠ আছে যা স্থান-কালের সীমা ছাড়িয়ে যায়। যেমন, ডকুমেন্টারির বেলায় স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো। আর আছেন হলিউডের অভিনেতা মরগ্যান ফ্রিম্যান। এদের ধীরলয়ের কণ্ঠে এমন কিছু আছে যা কোনো কথা শোনামাত্রই জগতের আদি সত্য বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়।
আর এমন কণ্ঠের মালিক যে নিজের স্বকীয়তার বিষয়ে অসম্ভব সচেতন হবেন, তা আলাদা করে বলার মতো কিছু নয়।
সেই স্বকীয়তার পক্ষেই কথা বললেন মরগ্যান ফ্রিম্যান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো কণ্ঠস্বর নকল করাকে ‘চুরি’ বলে বর্ণনা করেছেন হলিউডের এই বর্ষীয়ান চরিত্রাভিনেতা।
সম্প্রতি আইটিভি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রবীণ অভিনেতা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নিজের এমন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
৮৯ বছর বয়সি অস্কারজয়ী এ তারকা জনপ্রিয় সিনেমা ‘শশাঙ্ক রিডেম্পশন’-এ অনবদ্য অভিনয় ও নিজস্ব স্বকীয়তায় ধারাভাষ্য দিয়ে সিনেমার জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর নকল করা ও ডিপফেইক ভিডিও তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি লড়াইয়ে নামার পরামর্শ দিয়ে মরগান ফ্রিম্যান বলেছেন, “এক দিক থেকে বিষয়টি বেশ চমৎকার মনে হলেও অন্য দিক থেকে এটা স্পষ্টতই চুরি। এর বিরুদ্ধে আইনজীবীদের কাছে যান।”
তবে ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত এআইনির্মিত কনটেন্ট ও ডিপফেইক যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সেগুলোর আসল উৎস খুঁজে বের করা বেশ জটিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ব্লুজ সংগীতের প্রসারেও মরগান ফ্রিম্যানের বিশেষ অবদান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির ক্লার্কসডালে অবস্থিত ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামের এক ব্লুজ ক্লাবের সহ-মালিক তিনি। দুস্থ পর্যটক বা ব্যাকপ্যাকাররা এলাকায় ভালো ব্লুজ গান শোনার জায়গা খুঁজতে গিয়ে তার কাছে সাহায্য চাওয়ার পর তিনি ক্লাবটি গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
সম্প্রতি ব্রিটিশ অর্কেস্ট্রা দল ‘চিনেকি অর্কেস্ট্রা’’র সঙ্গে যৌথভাবে একটি নতুন অ্যালবাম প্রযোজনা করেছেন এ অভিনেতা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের অ্যালবামটি যদি গ্র্যামি পুরস্কার পেতে পারে, তবে তা তার জীবনের অন্যতম এক বড় প্রাপ্তি ও আনন্দের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
ব্লুজ সংগীতের ধারা ও একে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই নিয়ে হলিউডের কিংবদন্তি এ অভিনেতা এ ধারার মূল সুর ও সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন।
ব্লুজ সংগীতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় ফ্রিম্যান বলেছেন, “অনেক সময় এভাবেই এগুলোর পুনরুত্থান ঘটে। আপনি এটা দেখতে পান, এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন এবং এটা আবার ফিরে আসে।
“ব্লুজ নিজেই একটা বিলাপ, ব্যথা, ক্ষতি ও আকুলতার বহিঃপ্রকাশ। এটাই হল ব্লুজ।”
ব্লুজ সংগীতের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন কাজের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি ২০২৫ সালের একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী হরর চলচ্চিত্র ‘সিনার্স’-এর উদাহরণ দিয়েছেন।
অতিপ্রাকৃতিক এ চলচ্চিত্রে ব্লুজ সংগীত ব্যবহার করে সিনেমার মূল থিম ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যাকে তিনি ‘শক্তিশালী মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
“এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে এটাকে লালন করা হয় এবং আজ হোক কাল হোক, তা ঠিকই অঙ্কুরিত হবে, ঠিক যেমনটি এখন হচ্ছে।”
সুদীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মরগান ফ্রিম্যান ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া ‘ড্রাইভিং মিস ডেইজি’ (১৯৯০) ও ‘ইনভিকটাস’ (২০০৯)-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রে স্মরণীয় অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই অভিনেতা।