• বৃহস্পতি. সেপ্টে. 24th, 2026

আমার ‘ত্রিকালদর্শী’ জীবন: ‘আড্ডানামায়’ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

Bytrendnews

সেপ্টে. 24, 2026



অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ব্রিটিশ ভারতে, পাকিস্তান আমলে তার বেড়ে ওঠা আর অভিনয় জীবন শুরু করেন স্বাধীনতার পর; জীবদ্দশায় এই তিন সময়ের সাক্ষী হওয়ায় নিজেকে তিনি বলেন ‘ত্রিকালদর্শী’।

সুন্দরবনের গা ঘেঁষে তাদের পারিবারিক ভিটে, যেখানে প্রায় সাড়ে চারশ বছর ধরে বসবাস করে আসছে অভিনেতার পরিবার। বর্তমানে কেবল দুই ভাই টিকে আছেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় অভিনয়ে আগ্রহ জাগে জয়ন্তর। গ্রামে গিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে নাটক করতেন। এরপর তিন বছর ধরে চলে সংগীতচর্চা। কাজ করেন বেতারে। অংশ নেন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে এবং স্বাধীনতার পর সাংবাদিকতা ও মঞ্চনাটক পেরিয়ে টেলিভিশন-চলচ্চিত্রে পা রাখেন

আড্ডানামায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

গ্লিটজের সাক্ষাৎকার সিরিজ ‘আড্ডানামার’ অষ্টম পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

তিনি শুনিয়েছেন, কীভাবে তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ সিনেমায় কাজ শুরু করেছিলেন। দেশের প্রেক্ষাগৃহে নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পরেও এই চলচ্চিত্র নিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার গল্পও শুনিয়েছেন।

কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে ছিল এই অভিনেতার মজার কিছু স্মৃতি।

তবে জীবনের এই ভাগে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত কোনো স্বপ্ন আর অবশিষ্ট নেই জয়ন্তর। কেবল একটাই চাওয়া, মাতৃভূমি যেন সব সংকট থেকে মুক্তি পায়, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ‘মুক্ত নিঃশ্বাস নিয়ে’ বাঁচতে পারে।

আড্ডনামা সঞ্চালনা করেছেন অভিনেত্রী নিমা রহমান। গ্লিটজের এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে আলোক হেলথকেয়ার এন্ড হাসপাতাল।

আগের সাত পর্বে অতিথি হয়েছিলেন অভিনেতা আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, চঞ্চল চৌধুরী, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ এবং ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে এ অনুষ্ঠান।

‘সুন্দরবন লাগোয়া বাড়ি, তাই একটু বুনো বুনো ভাব’

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ঈশ্বরীপুরে, তৎকালীন খুলনা জেলার অন্তর্গত, বর্তমান সাতক্ষীরার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের শ্যামনগর উপজেলায়, সুন্দরবনের গা ঘেঁষে।

অভিনেতা বলেন, “সুন্দরবন লাগোয়া উপজেলা শ্যামনগর, ওখানেই আমাদের বাড়ি। যার জন্য আমার মধ্যে একটু বুনো বুনো ভাব আছে।”

এ কথা শুনে রসিকতা করে নিমা রহমান জানতে চান, বাঘের মত গর্জনও আছে কি না।

জবাবে জয়ন্তর উত্তর, “না, হরিণের মত মায়া আছে।”

এই জেলায় জয়ন্তর পরিবারের বসবাস প্রায় সাড়ে চারশ বছর ধরে। জয়ন্ত ও তার ভাই নিজেদের পরিবার সেই বংশের ধারা রক্ষা করে চলেছেন।

শৈশব ও কৈশোর নিয়ে অভিনেতা বলেন, তার শিশুকাল এবং তারুণ্য কেটেছে সাতক্ষীরায়।

“আমি কিন্তু আবার ত্রিকালদর্শী। কারণ আমার জন্ম হয়েছে ব্রিটিশ ভারতের শেষ বছরে, আগের বছরে। বড় হয়েছি পাকিস্তান আমলে, আর এখন চলছি বাংলাদেশের সঙ্গে।”

স্কুল-কলেজ পর্ব সাতক্ষীরায় শুরু হলেও মাঝপথে মামার বাড়ি কলকাতায় চলে যান জয়ন্ত, পড়াশোনা শেষ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই সাংস্কৃতিক কাজে ঝোঁক তৈরি হয়।

নির্দেশক তপন গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হয় পথনাটক, সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চনাটকেও অভিনয় করেছেন। আবৃত্তির সূত্রে জায়গা করে নেন ভারতের জাতীয় বেতার সম্প্রচার সংস্থা আকাশবাণীতে।

জয়ন্ত বলেন, “তপেন গঙ্গোপাধ্যায় বেশিরভাগ সময় পথনাটক করতেন। আমরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নাটক করতাম, টেম্পোরারি মঞ্চ তৈরি করে। এছাড়া ওখানে কলকাতায় আমি আমাদের ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে নাটক করেছি। তারপরে আমি বেতারে গেলাম, একটু আবৃত্তি-টাবৃত্তি করি। বেতারে আমি সিলেক্টেড হয়ে গেলাম। আকাশবাণী। আকাশবাণী ক, খ, গ তে।”

ওই সময়েই তিনি ওস্তাদ নিধান মুখোপাধ্যায়ের কাছে গান শেখা শুরু করেন।

জয়ন্ত বলেন, “আমি ওস্তাদজির কাছে সংগীত শিক্ষায় নাড়া বাঁধলাম। সেখানে তিন বছর ধরে শুধু সরগম করছি, হ্যা হ্যা করছি। একদিন আমার ইচ্ছা হল যে, শারদীয় পূজাসংখ্যা, পূজাসংখ্যা গান বেরোত। হিজ মাস্টার্স ভয়েস থেকে রেকর্ড হত। তা আমি একদিন বললাম যে, স্যার এরকম আপনি তো আমাকে শুধু সরগমই শেখাচ্ছেন, তা আমি গান গাইব কবে? আমাদের কলেজের বার্ষিকীর ফাংশনের সময় আমাদের বন্ধুবান্ধবরা ওই শ্যামল মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর নকল করে গান গাইত। আমারও ইচ্ছে হত গান গাইতে।”

“আমি স্যারকে গান গাওয়ার কথা বললাম, তখন তিনি অবাক হয়ে বলেন, ‘গান গাইবে মানে?’ আমি বললাম আপনার কাছে আমি গান শিখছি না? বলে আমি তো তোমাকে গান শেখাচ্ছি না। সর্বনাশ! সাড়ে তিন বছর হয়ে গেল আমি গান শিখছি না! আমি কী শিখছি স্যার? উনি বলেন আমি তো তোমাকে গান শেখাচ্ছি না, গান তো তুমি নিজেই শিখবে। আমি তো তোমার কান তৈরি করছি।”

জয়ন্ত বলেন, “তা এইটা আমার এখনো মনে আছে যে উনি কত বড় কথা বলেছিলেন। অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়াতে কান আর চোখ তৈরি করতে হয় আগে। এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।”

দুই ভাই চললেন মুক্তিযুদ্ধে

গানের চর্চা আর এগোয়নি অবশ্য। ষাটের দশকের বামপন্থি ছাত্র আন্দোলন আর নকশাল ভাবধারার সঙ্গে কিছুদিন জড়িয়ে পড়েন জয়ন্ত, কোনো কিছুতেই স্থির হতে পারছিলেন না।

এর মধ্যেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, দুই ভাই একসঙ্গে যোগ দেন মুক্তির সংগ্রামে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী টাকি ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন অভিনেতার মামা।

প্রথমে দেরাদুনে যাওয়ার কথা ছিল দুই ভাইয়ের, কিন্তু বাবা খবর পাঠিয়েছিলেন, তিনি কলকাতায় না যাওয়া পর্যন্ত ছেলেরা যেন যুদ্ধে না যায়। পরে মামা তাকে টাকি ক্যাম্পেই মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটমেন্টের কাজে যুক্ত করেন।

এরপর বসিরহাটের শরণার্থী শিবিরগুলোয় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন জয়ন্ত। ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, রেশন বিতরণ, আর তরুণদের রিক্রুট করে দেরাদুনে পাঠানোর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

৭৬ সালে টেলিভিশনে পা, শুরু আবৃত্তি দিয়ে

স্বাধীনতার পর বিয়ে করেন জয়ন্ত, স্ত্রীকে নিয়ে দেশে চলে আসেন ভারত ছেড়ে। খুলনায় গিয়ে যোগ দেন গণকণ্ঠ পত্রিকায়, লেখালেখি চলে সাপ্তাহিক ‘ডাক দিয়ে যাই’-তেও।

সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও কিছু করেছেন তিনি।

সেটা কেমন ছিল, জানতে চাইলেন নিমা রহমান।

জয়ন্ত বলেন, “ওখানে এই আবৃত্তি করা, মঞ্চনাটক করা। তারিক আনাম, এদের সঙ্গেও আমি সাতক্ষীরায় প্রচুর নাটক করেছি, মঞ্চনাটক করেছি। খুলনায় একটা নাট্যদল তৈরি করলাম, প্রতিনিধি। এইগুলো করার পর আমি ঢাকায় চলে এলাম।”

১৯৭৬ সালে টেলিভিশনে প্রথম আবৃত্তি করেন জয়ন্ত। পরের বছর অভিনয় করেন একটি গ্রামীণ নাটকে তরুণ চেয়ারম্যানের চরিত্রে।

তিনি বলেন, “তখন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ভাইয়ের নজরে পড়ে গেলাম। তারপরে ধীরে ধীরে সবার সঙ্গে পরিচয় হল এবং আমি অভিনয় পারি এটা তারা প্রত্যেকে উপলব্ধি করলেন। তারপরে এক এক করে আলী ইমাম, আলিমুজ্জামান দুলু, তারপরে আমি নজরে পড়লাম মামুন ভাইয়ের, আব্দুল্লাহ আল মামুন। তখন আমি দুটো মঞ্চনাটক করেছিলাম আমার নিজের পরিচালনায়। একটা হচ্ছে ‘ফাউস্ট’। আমরা তখন কিন্তু ফিল্ম সোসাইটি মুভমেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি।”


Image

মাটির ময়নায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও রোকেয়া প্রাচী

জয়ন্তকে ঘরে ঢুকিয়ে শেকল তুলে দেন নির্মাতা তারেক মাসুদ

চলচ্চিত্র সোসাইটি আন্দোলনের সূত্রেই পরিচালক আলমগীর কবিরের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন জয়ন্ত। আলমগীর কবীর তাকে নিজের পরবর্তী সিনেমায় প্রধান চরিত্রে নেওয়ার কথা বললেও পরের বছরই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।

এরই মধ্যে এস এম সুলতানকে নিয়ে তারেক মাসুদের সাত-আট বছর ধরে বানানো তথ্যচিত্র ‘আদম সুরত’-এ কণ্ঠ দেন জয়ন্ত।

সেই পরিচয়েই তারেক তাকে মনে রেখে দিয়েছিলেন বলে মনে করেন জয়ন্ত।

তার কথায়, “তারেক খুঁজছিলেন এমন একজন নন-কনভেনশনাল অভিনেতা যার গতানুগতিক স্ক্রিন-প্রেজেন্স নেই। তিনি ঠিক করেন, মাটির ময়নার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমাকে সুযোগ দেবেন।”

তবে আগাম কিছু না জানিয়ে উত্তরার বাসায় একদিন জয়ন্তকে নিমন্ত্রণ জানান তারেক মাসুদ।

এরপর জয়ন্ত শুরু করেন ‘মাটির ময়না’ সিনেমায় তার জড়িয়ে পড়ার গল্প

“তারেকের বাসায় গেলাম। গিয়ে দেখি একদম রেডি। মানে রেডি ফর শ্যুট। ওর কাজ খুব গোছানো ছিল। একদম ফাইনাল, মানে শুটিং স্ক্রিপ্ট বাঁধানো খাতা আমার কাছে দিয়ে বলল আপনি খাওয়া দাওয়া করেন। খাওয়ার পর বলল যে এই হচ্ছে আপনার ঘর, এখানে বসে বইটা পড়ুন। তার মধ্যে একটা ফ্লাস্কে চা দিল। আমার ধূমপানের ব্যবস্থা করে, ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে দেখি বাইরে থেকে শেকল তুলে তালা দিয়ে দিচ্ছে। বলে এইটা আপনাকে তিনবার পড়তে হবে। এই সারা দুপুরবেলা।

“তিনবার পড়ে আপনি আমাকে আওয়াজ দেবেন, আমি বের করব আপনাকে, তারপরে আমার কতগুলো প্রশ্ন আছে। সে প্রশ্নগুলো করব। ক্যাথরিনও ছিল সে সময়। আমি বাধ্য হয়ে পড়লাম। অক্ষরে অক্ষরে পালন করলাম তার অনুরোধ। চা খেয়ে ওখানে থাকলাম ভেতরে। বললাম আমি কিন্তু বাইরে থেকে দেখব আপনি পড়ছেন, ঘুমোবেন না যেন। তা আমি পড়লাম। অসাধারণ একটা গল্প। গল্পটা তো তারেকের। এবং গল্পটা কিন্তু তারেকের চাইল্ডহুড মেমোরি। আর আমাকে যে চরিত্রটা দিয়েছে এটা তারেকের বাবার চরিত্র। আমি বললাম, অসাধারণ চরিত্র তুমি কী জন্যে এটা আমাকে পড়তে দিলে। সে বলে ছবি বানাচ্ছি।”

চরিত্রের জন্য দাড়িও রাখতে বলা হয় তাকে আগে থেকেই। বিপরীতে নায়িকা চরিত্রে বহু অভিনেত্রীর কথা ভাবার পর পরিচালক মোরশেদুল ইসলামের পরামর্শে বাছাই হন রোকেয়া প্রাচী।

সিনেমার পাত্র-পাত্রীদের পোশাকের কাপড় মাইক্রোফোনে ঘষা লেগে শব্দ নষ্ট করবে কি না তা পরখ করতে মুম্বাই থেকে উড়ে আসেন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার।

জয়ন্ত বলেন, সিনেমার গল্পে দেখানো হয়েছে বছরের ছয়টি ঋতু; ধান বোনা থেকে কাটা, বর্ষায় বিল ভেসে যাওয়া থেকে নদীর টানে পানি নেমে যাওয়া।

“সেই মেজাজ ধরে রাখতে টানা ১০ মাস ধরে থেমে থেমে শুটিং করতে হয়েছিল।”


Image

‘মাটির ময়না’য় রোকেয়া প্রাচী

নিষেধাজ্ঞা

জয়ন্ত বলেন, শুটিং শেষে ঘরোয়া প্রদর্শনীতে পুরো সিনেমা দেখার পর আসে বড় ধাক্কা।

“জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ১১ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু ঘোষণা করা হয়নি, নতুন সরকার আসার পর যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি পাল্টে গেলেন এবং একজন খুব বিখ্যাত মানুষ এলেন, কিন্তু তিনি ডানপন্থি। সেন্সর বোর্ডে গিয়ে তিনি সিনেমাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।”

সিনেমা নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের বাইরে পাঠানোরও উপায় ছিল না। তবে তারেক মাসুদ আগে থেকেই ফ্রান্সের বড় প্রযোজক মারিন কার্মিজের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় গিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশ থেকে নয়, সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে জমা পড়ে ফ্রান্স থেকেই, কোনো আপত্তি ছাড়াই মেলে কানের আমন্ত্রণ।

কক্সবাজারে শুটিংরত অবস্থায় হঠাৎ ফোন পেয়ে পরদিনই ঢাকায় ফেরেন জয়ন্ত। তারেক জানিয়ে দেন ফ্লাইটের তারিখ, তবে সতর্কবার্তাও দেন।

জয়ন্ত বলেন, “সে সময় মাটির ময়না নিষিদ্ধ সিনেমা, কোনোরকমে জানাজানি হলে সমস্যা। তারেক বলেন, আমি আর ক্যাথরিন চলে যাচ্ছি আগে, আপনি আর রোকেয়া প্রাচী এখন যাবেন, কিন্তু এয়ারপোর্টে টেকঅফ করার আগে আপনারা কেউ কাউকে চেনেন না। বুঝতে পারছ ব্যাপারটা? কারণ এখানে তো নিষিদ্ধ সিনেমাটা।

“আমরা চুপচাপ, প্রাচী আলাদা গিয়েছে, আমিও আলাদা গিয়েছি। ফ্লাইটে পাশাপাশি আমাদের সিট পড়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি অন্যদিকে চেয়ে আছি, প্রাচী অন্যদিকে। যখন আমি তো দেখতে পাচ্ছি সামনে স্ক্রিনে ওই যে রুট দেখায় না, যখন বাংলাদেশ টেরিটরি পার পার হয়ে গেছে তারপরে আমি আর প্রাচী কথা বলা শুরু করছি।”

‘চলচ্চিত্রই সবচেয়ে ভালো লাগে’

‘মাটির ময়না’র বাইরেও তারেক মাসুদের দুটো সিনেমায় কাজ করেছেন জয়ন্ত–’অন্তর্যাত্রা’ ও ‘রানওয়ে’।

এ ছাড়া মোরশেদুল ইসলামের ‘দূরত্ব’, গোলাম রব্বানী বিপ্লবের ‘বৃত্তের বাইরে’ এবং আবু সাইয়ীদের প্রায় সব সিনেমাতেই দেখা গেছে তাকে।

কোন মাধ্যমে অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে? জয়ন্ত বলেন, “সবগুলো মাধ্যমেই ভালো লাগে। আমি মঞ্চ অভিনয় করেছি। রেডিওতে অভিনয় করতে আমার খুব স্বাচ্ছন্দ্য, ভালো করি। টেলিভিশনে তো ভালোই করি।

“তবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে সবচেয়ে ভালো লাগে। চলচ্চিত্র বড় স্প্যানে কাজ করা। ভালো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করার একটা ব্যাপার আছে। হ‌ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করে আমি আনন্দ পেয়েছি।”


Image

আড্ডানামায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

হ‌ুমায়ূনের ‘পোষা ভূত’ ছিল

কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে এক মজার গল্প।

জয়ন্ত বলেন, মানুষকে ভয় দেখিয়ে আর ক্ষেপিয়ে মজা পেতেন হ‌ুমায়ূন। এ কাজে তার হাতে নুহাশ পল্লীর কিছু লোকজন ছিল, যারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে আনন্দ দিতেন হ‌ুমায়ূন আহমেদকে।

অভিনেতা স্বাধীন খসরুর বিয়ের রাতের একটি ঘটনা বলতে শুরু করেন জয়ন্ত।

তিনি বলেন, “নুহাশ পল্লীর লনে গোল টেবিলে অতিথিদের বসিয়ে সব আলো নিভিয়ে হাজার হাজার মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল সেদিন। খাওয়ার মাঝেই হঠাৎ ম্যানেজার চিৎকার করে ওঠেন, “জয়ন্তদা দেখুন!”

জয়ন্ত বলেন, “হঠাৎ একটা সাদা পোশাক উঠে দাঁড়াল, পরমুহূর্তে দেখি নেই। একটা ছেলে তো ভয়ে সুইমিং পুলের ভেতর দিয়ে সাঁতরে এপারে চলে এল। সবাই কেঁদে ফেলেছে, টেবিল থেকে গ্লাস পড়ে যাচ্ছে। তারপর দেখি সুইমিং পুলের পেছনে জবা বাগানে সেই সাদা প্রাণিটা আবার উঁচু হয়ে উঠল।”

জয়ন্তের ভাষায়, “আসলে এটা হ‌ুমায়ূনের পোষা ভূত।”

আড্ডার শেষে আগামী স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে জয়ন্ত বললেন, ব্যক্তিগত কোনো স্বপ্ন আর অবশিষ্ট নেই। তার দুই ছেলে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। অভিনেতা নিজে সময় দিচ্ছেন লেখালেখিতে, ইতোমধ্যে বেরিয়েছে বেশ কিছু বই।

জয়ন্ত বলেন, তিরি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চান।

“যে দেশের মাটিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তত একটু নিঃশ্বাস নিয়ে বাঁচবে, একটু মুক্ত হাওয়ায় বাঁচবে। কিন্তু সেই স্বপ্নটা পূরণ হবে কি না জানি না।”



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।