
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের বিজোই ইমানুয়েল মামলার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় কারণে কেরলমের এক স্কুলে জাতীয় সংগীত গাইতে অসম্মত হওয়া তিন পড়ুয়াকে সুপ্রিম কোর্ট আইনি রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় ছিল, জাতীয় সংগীতের অপমান বা অসম্মান করার অপরাধে কারাবাস ও জরিমানার যে বিধান রয়েছে, না গাওয়ার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হতে পারে না। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিমত তলব করেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে তা দিতে বলা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার সঙ্গে তীব্র বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন আবেদনকারী টি এম কৃষ্ণের আইনজীবী এস মুরলীধর। মুরলীধর বলেন, বন্দে মাতরমের শেষ চার স্তবকে হিন্দু দেবীদের বর্ণনা রয়েছে। সম্পূর্ণ গানটি গাইতে বাধ্য করা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী। তিনি বলেন, কোনোরকম জাতীয় ঐকমত্য বা জনমত গঠন না করে তড়িঘড়ি করে ওই সংশোধনী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী মুরলীধরের এই বক্তব্যের পিঠে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক রীতি ও পদ্ধতি মেনে আইন প্রণয়ন হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নকশালপন্থীদের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী বা তাদের দাবি মেনে হয় না। তুষার মেহতার ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে মুরলীধর বলেন, স্বাধীনচেতা মানুষ মানেই নকশালপন্থী নয়। সলিসিটর জেনারেল ও মামলাকারীর আইনজীবীর বাগ্বিতণ্ডায় বিচারপতিরা হস্তক্ষেপ করেননি। তবে জানিয়েছেন, মেহতা ও মুরলীধরের মন্তব্যগুলো নথিভুক্ত হবে না।