
স্লো ফুড আন্দোলন সচেতনভাবেই ফাস্ট লাইফকে বর্জন করার পক্ষে। তাঁরা বলেন, খাদ্য হলো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। খাবার তৈরি, পরিবেশন এবং গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটিতে মাইন্ডফুলনেস (সচেতন মনোনিবেশ) এবং ‘মনের আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য’ জরুরি। এতে কোনো তাড়াহুড়া কাম্য নয়। তা ছাড়া খাদ্য উৎপাদনে স্থানীয় কাঁচামাল, মসলা, তেল ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পক্ষে তাঁরা, নিজস্ব পারিবারিক রান্নাঘরই সেরা—এটাই তাঁদের ভাষ্য। ফাস্ট ফুড আসার পর মানুষের রোগবালাই যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশে দেশে হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ও নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ। উনিশ শতকে ইউরোপের শহরগুলো তাদের ৯০ ভাগ ঐতিহ্যবাহী খাবার হারিয়ে ফেলেছে বলে তাঁরা গবেষণায় প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি স্থানীয় সবজি, গাছড়া, মসলা ও গৃহপালিত প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে। বিপন্ন হয়েছে আরও অনেক খাদ্য উপাদাননির্ভর বৃক্ষ গুল্ম। উল্টো দিকে আগে থেকে প্রক্রিয়াজাত ও দ্রুততম সময়ে পরিবেশন করা ফাস্ট ফুড সংস্কৃতি মানুষের স্বাদে-গন্ধের আনন্দের তীব্রতা কেড়ে নিয়েছে। নষ্ট করছে পরিবেশ। ফাস্ট ফুডের ক্ষেত্রে খাবারের অপচয়ের হারও বেশি।