
এখানেই যুক্ত হবে আউটপুট ও ফলাফলভিত্তিক অর্থায়ন। কত টাকা খরচ হয়েছে, তার পাশাপাশি কতজন রোগী সেবা পেলেন, জরুরি সেবা কত দ্রুত দেওয়া হলো, প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা কেমন, রোগীর অপেক্ষার সময় কত, নির্ধারিত মানের সেবা কতটা নিশ্চিত হলো এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফল কী—এসব সূচক বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বরাদ্দ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শুধু রোগীর সংখ্যা নয়; সেবার পরিমাণ, গুণগত মান ও ফলাফল—তিনটিই বিবেচনায় আসতে হবে।
একই সঙ্গে কোনো সরকারি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সেবা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে অনুমোদিত ও মানসম্মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে সেই সেবা কেনার সুযোগও থাকতে হবে। আর তহবিলের মধ্যে একটি পৃথক জরুরি স্বাস্থ্য তহবিল রাখা যেতে পারে, যাতে রোগের প্রাদুর্ভাব বা বড় দুর্যোগের সময় পূর্বনির্ধারিত নিয়মে দ্রুত অর্থ ছাড় করা যায়।
তবে নমনীয়তা কোনোভাবেই অনিয়মের সুযোগ নয়; বরং এ ব্যবস্থায় জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি টাকার ‘বরাদ্দ>ব্যয়>সেবা> ফলাফল’ ধারাটি ডিজিটালভাবে অনুসরণ করা যেতে পারে। একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা যেতে পারে, কে কত টাকা পেলেন, কী কাজে ব্যয় করলেন এবং তার বিনিময়ে কী সেবা ও ফলাফল অর্জিত হলো। আর্থিক নিরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন হবে পারফরম্যান্স অডিট, যাতে শুধু অর্থ নিয়ম মেনে খরচ হয়েছে কি না, তা নয়; নির্ধারিত ফলাফল অর্জিত হয়েছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা যায়।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা তাই শুধু অর্থের ঘাটতি নয়; বড় সমস্যা হলো, যেখানে যখন অর্থের প্রয়োজন, সেখানে তখন তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে না পারা। আমাদের স্বাস্থ্য অর্থায়নের দর্শনেও পরিবর্তন দরকার। প্রশ্ন শুধু ‘কত টাকা খরচ হলো’ নয়; প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘সেই অর্থে কতটা স্বাস্থ্যসেবা তৈরি হলো এবং মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন এল?’