
শুধু কি ওই কাউয়াদীঘি হাওরই ধানের রঙে এমন হয়েছে; মৌলভীবাজারের হাকালুকি, হাইল হাওরেও এখন এমনই ধান—সবুজের মাখামাখি হয়ে আছে, হাওরজুড়ে ধানেরই চিরায়ত মায়া। এসব হাওরে এখন ধানের শরীর ফসলের ভারে আহ্লাদী হয়ে আছে, যেন টোকা পড়লেই তারা ঢলে পড়বে। কোথাও সোনালি রং ধরছে ধানে। কিছু জমির ধান পেকে গেছে। পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষক। তবে পাকা ধানের খেত খুব সামান্যই। কোথাও ধানের শিষ আস্তে আস্তে সোনালি হয়ে উঠছে। কিছুদিনের মধ্যে পুরো ধানের ছড়াই সোনালি হবে, কৃষকের গোলায় উঠতে আনচান করবে এই ধান। কিছু ধান দেখা গেছে কালো রঙের। এগুলো হয়তো বিরইন (বিন্নি) বা চিনিগুঁড়া সুগন্ধি জাতের ধান। কিছু কৃষক ধানের খেত থেকে গবাদিপশুর জন্য লম্বা জাতের ঘাস কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কাঁধে করে, কেউ ঠেলাগাড়িতে করে ঘাস পরিবহন করছেন। ধান তোলার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে হাওরের বুকে। অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করা হয়েছে, রোদ অসহনীয় হলে হাওরে দিনমান কাটানো মানুষ ওই সব তাঁবুর নিচে বিশ্রাম নেন, ছায়ায় বসেন।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে হাওর একদমই জনশূন্য হয়ে ওঠে। যাঁরা এত সময় ছিলেন, তাঁরা হাওর ছেড়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ালেন। খোলা আকাশে ভেসে ওঠে আধখানা চাঁদ। ‘আধখানা চাঁদ হাসিছে আকাশে/ আধখানা চাঁদ নিচে’…একদমই তাই। কাউয়াদীঘি হাওরের ওপরে যেমন আধখানা চাঁদ ভাসছে তখন, তেমন নিচে লাসগাঙের হাঁটুজলে ছিল আরও আধখানা। ‘তুমি তা জানো না কিছু-না জানিলে/ আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে’… চাষিরা হয়তো এ রকম ভাষায় ভাবেন না, তবু তাঁদের সব গান ওই হাওরের বুকে থাকা ধানকে ঘিরেই এখন।