
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই যাত্রা শুরু করে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি করা হয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা দেশকে চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছরের মাথায় সেই সংবিধান বাতিল করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বা বাকশাল কায়েম করে। সেই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবার হত্যার শিকার হন। এরপর সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, সেনাশাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে দেশ।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ও ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ স্বাধীনতা পায়নি এমন সমালোচনা আছে। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পালাক্রমে সরকার গঠন করে। তবে নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে বিরোধ অব্যাহত ছিল। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে; ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে তলানিতে নিয়ে আসে। এই তিনটি নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন আয়োজনে যুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের (সিইসি) পরে কারাগারে যেতে হয়। তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পলাতক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। এখন বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন, সংসদ, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করা।