
খ. ম হারূন এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জাপানের সরকারি টিভি চ্যানেল এনএইচকে, বিটিভি এবং বিবিসির লোগোর বিবর্তনের ছবি তুলে ধরেছেন। যাতে দেখা যাচ্ছে তিনটি লোগোতেই সামান্য কিছু পরিবর্তন হলেও মূল লোগোগুলো প্রায় একই আছে।
বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক-ভ্রামণিক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফরিদুর রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিটিভির লোগো পরিবর্তনের চেষ্টার বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে টেলিভিশন প্রতিষ্ঠার পরপর নিয়োগপ্রাপ্ত শিল্পী এবং পরে বিটিভির সাবেক মুখ্য শিল্পনির্দেশক একুশে পদকপ্রাপ্ত অগ্রজ শিল্পী ও অভিনেতা কেরামত মওলার অভিমত নিয়েছি। তিনি বলেছেন, লোগো বদলাতে হবে না। আপনারা অর্থাৎ বিটিভি কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানের মান বাড়ান, বৈচিত্র্য আনেন, সংবাদ পরিবেশনায় নিরপেক্ষতা দেখান, এতে বিটিভির দর্শক ক্রমান্বয়ে বাড়বে। একই মত দিয়েছেন বিটিভির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ লুৎফি আলী।
কথা বলেছি বিটিভির সাবেক দুই নিয়ন্ত্রক মানিক দে ও মোহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে। তাঁরাও লোগো পরিবর্তনের বিপক্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক টিভি ইঞ্জিনিয়ার লতিফা বানু সুগন্ধিও একই মত ব্যক্ত করেছেন।
কর্মসূত্রে আমি দেখেছি, সরকারি টেলিভিশনের অনেক সীমাবদ্ধতা। সরকার চাইলেও অনেক সময় টিভি কর্মী ও কর্মকর্তারা সেলফ সেন্সরে এমন অভ্যস্ত, যা প্রতিষ্ঠানটির গণমুখী চরিত্র অর্জনের জন্য প্রতিবন্ধক। টিভি বিশ শতকের মাধ্যম। একুশ শতকে এসে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম দর্শকদের সব ধরনের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার সামর্থ্য রাখে না। রিমোট হাতে দর্শক সব সময় বিকল্প খোঁজেন। দর্শককে পর্দামুখী করতে হলে অনুষ্ঠান এবং সংবাদকে গণমুখী ও নিরপেক্ষ করতে হবে। লোগো পরিবর্তন এসব সমস্যার সমাধান দেবে না।
লেখক: সাবেক পরিচালক (ডিজাইন), বাংলাদেশ টেলিভিশন