• মঙ্গল. অক্টো. 6th, 2026

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগের পর প্রেসিডেন্টের ভিডিও বার্তা

Bytrendnews

অক্টো. 5, 2026


২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এর প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় ‘আরও ভাল করতে হবে’ বলে বার্তা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ।

বিবিসি জানায়, শনিবার রাতে প্রকাশিত আট মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় কটলিকফ ওই অভিযোগকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে মাদক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের সংস্কৃতি এবং মামলার তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‘জেন ডো’ ছদ্মনামের ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর কোর্নেলের ‘কাই ফাই’ ফ্র্যাটারনিটির সাত সদস্য ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে অ্যালকোহল ও কেটামাইন নামক মাদক খাইয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যৌন নির্যাতন চালায়।

ঘটনার দুই সপ্তাহ পরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করলেও আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করা হয়নি।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাকে সুরক্ষা দিতে এবং অপরাধে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন জেন ডো।

মামলায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট কটলিকফ বলেন, অভিযোগটি কীভাবে সামলানো হয়েছে, তা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং কমিউনিটিকে আরও ভাল করতে হবে।

যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সম্মতির অর্থ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ‘মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, “আমাদেরই পথ দেখাতে হবে, জেন ডো এবং যৌন নিপীড়ন থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে যাতে আমরা এই বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারি। এবং আমাদের একে অপরকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।”

তবে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আয়োজিত প্রকাশ্য শুনানিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের প্রশাসনের পরিবর্তন দরকার এবং তা খুব দ্রুত হতে হবে। এ ধরনের ঘটনা কখনও ঘটা উচিত হয়নি, এটি আমাদের জন্য চরম লজ্জা।”

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সরাসরি এতে হস্তক্ষেপ করার পর।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের আগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বিষয়টির নতুন করে ফৌজদারি তদন্তের জন্য নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে পুরো বিষয়টি পরিচালনা করেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন আইন সংস্থাকেও যুক্ত করা হয়েছে।

মূলত দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি এবং রাজ্য সরকারের নতুন করে ফৌজদারি তদন্তের আদেশের কারণেই দুই বছর আগের এই দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল নিউ ইয়র্কের এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।