• রবি. অক্টো. 4th, 2026

বাংলাদেশে টেলিকম খাতে আয়ের প্রবৃদ্ধি এক জায়গায় আটকে যাচ্ছে: নিক রিজাল

Bytrendnews

অক্টো. 4, 2026


বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন খাতের পরিসর বাড়তে থাকলেও আয়ের প্রবৃদ্ধি একটা জায়গায় আটকে যাচ্ছে বলে মনে করেন আজিয়াটা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিক রিজাল কামিল।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উচ্চ কর, স্পেকট্রামের মূল্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন চার্জ পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন তিনি।

অবশ্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে ‘ব্যবসাবান্ধব’ হিসেবে দেখছেন মালয়েশিয়াভিত্তিক কোম্পাটির এ কর্মকর্তা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে এসব অভিমত তুলে ধরেন নিক রিজাল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের টেলিকম ও তথ্য প্রযুক্তি খাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও ডিজিটাল ব্যাংকসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

আজিয়াটার অধীনে বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া ও ফিলিপাইনে ১০টির মতো টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানি রয়েছে। বাংলাদেশের রবি হচ্ছে আজিয়াটা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

গত জুনে আজিয়াটার নেতৃত্বে আসেন ৫৩ বছরের নিক রিজাল কামিল। সম্প্রতি রবির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঢাকায় এসেছিলেন নিক রিজাল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বাংলাদেশের নতুন সরকারকে ব্যবসাবান্ধব অভিহিত করে আজিয়াটা গ্রুপের প্রধান বলেন, “নতুন সরকারকে ব্যবসাবান্ধব বলে মনে হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের একটি পরিষ্কার লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। টেলিযোগাযোগ খাতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।”

উদাহরণ হিসেবে সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত ভালো একটি পদক্ষেপ। কারণ এর ফলে অপারেটররা কর হিসেবে যে অর্থ ব্যয় করত, সেই অর্থের একটি অংশ আবার স্পেকট্রাম কেনা, উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা নতুন সাইট ও টাওয়ার স্থাপনের মতো কাজে বিনিয়োগ করতে পারবে। এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের কাভারেজ ও সেবার মানও উন্নত করা সম্ভব হবে।

“অবশ্যই কর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর পাশাপাশি স্পেকট্রাম নিয়ন্ত্রণ ও স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে স্পেকট্রামের মূল্য বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল বলে আমি মনে করি। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “আমরা অন্তত সরকারের কাছ থেকে এমন কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি যে, তারা বিষয়টি উপলব্ধি করছে। সরকারও বুঝতে পারছে যে স্পেকট্রামের জন্য ক্রমাগত উচ্চমূল্য নির্ধারণ করা হলে টেলিকম কোম্পানিগুলোর পক্ষে সেই স্পেকট্রাম কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং একই সঙ্গে ব্যয়বহুল নেটওয়ার্ক সরঞ্জামে পুনর্বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের পরিবর্তন টেলিকম খাতের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।“

নিক বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে দেখি। এটি আমাদের জন্য একটি প্রবৃদ্ধিশীল বাজার। আমার নিজের দেশ মালয়েশিয়ার কথাই যদি বলি, সেখানে টেলিকম কোম্পানিগুলোর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমরা প্রায় ৭, ৮ কিংবা ৯ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি।”

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখনো উন্নত প্রযুক্তি ও আরও ভালো কানেক্টিভিটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই বাজারে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেশি।

“বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। বিপরীতে মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ। অর্থাৎ জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বাজার প্রায় ছয় গুণ বড়। সাধারণ হিসাবেই এটি প্রায় ছয় গুণ সম্ভাবনার একটি বাজার তৈরি করে।”

তার চোখে, বাংলাদেশের সম্ভাবনা শুধু টেলিযোগাযোগ খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরো দেশ হিসেবেই এখানে বড় সুযোগ রয়েছে।

“প্রশ্ন হলো, কীভাবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে পারে? এখানে আমি অনেক সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। এর জন্য প্রয়োজন হবে দূরদর্শী চিন্তা, সঠিক পরিকল্পনা এবং কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা। আমি অবশ্য সরকারের হয়ে কথা বলতে পারি না। তবে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রসর চিন্তাভাবনার কিছু দিক স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে নিক বলেন, “এগুলো শুধু বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে না, বরং বিশ্বের কাছেও একটি বার্তা দেবে যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কারণ আমি জানি, গত কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না।”

বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন খাতের আয়ের প্রবৃদ্ধি একটা জায়গায় আটকে যাচ্ছে বলে মনে করেন আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “টেলিযোগাযোগ খাত অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। খাতটি এখনও বাড়ছে, তবে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমি বলব, অনেকটাই স্থির হয়ে পড়ছে।

“অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি। রবি কিংবা আজিয়াটা গ্রুপের অন্যান্য দেশের অপারেটিং কোম্পানিগুলো স্থানীয় মুদ্রায় ব্যবসা পরিচালনা করে। কিন্তু নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় মার্কিন ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে এখানে একটি বড় ধরনের মুদ্রাগত অসামঞ্জস্য তৈরি হয়।”

টেলিকম সেবাদাতা কোম্পানি থেকে (টেলকো) প্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল সেবাদাতা (টেককো) কোম্পানিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়েও কথা বলেন নিক রিজাল।

হালের প্রবণতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগে হয়তো কাজ ছিল টাওয়ার স্থাপন, রেডিও সরঞ্জাম বসানো এবং স্পেকট্রামের মাধ্যমে সেবা দেওয়া। এখন এর পাশাপাশি কীভাবে এসব প্রযুক্তি পরিচালনা ও কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যখন টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসছে।”

বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ কর, স্পেকট্রামের মূল্য এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন চার্জকে বড় প্রতিবন্ধকতার কথা সামনে আনছেন।

এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন জানতে চাইলে নিক রিজাল বলেন, “টেলিকম খাতের জন্য অনুকূল নিয়ন্ত্রক ও করব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। আজিয়াটা যেসব দেশে কার্যক্রম চালায়, সেখানে নীতিমালা, নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও করব্যবস্থা একেক রকম।”

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের রবির মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জন্য এটি নতুন কিছু নয়। রবি ইতোমধ্যে ৩০ বছর ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা মোবাইল যোগাযোগের শুরুর দিন থেকে টুজি, থ্রিজি, ফোরজি পেরিয়ে এখন ফাইভজির দিকে এগিয়ে এসেছি।”

নতুন সাইবার নিরাপত্তার যুগে রবি কীভাবে তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে নিক রিজাল বলেন, “টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি ‘পাইপ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু তথ্য বেহাত হওয়া, নিরাপত্তা সমস্যা বা হ্যাকিংয়ের মতো অনেক ঘটনা আসলে এই পাইপের ভেতরে ঘটে না। বরং এর ওপরের স্তরে ঘটে। আর সেই স্তরে প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম হলো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, হাইপারস্কেলারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা।”

শুধু রবি আজিয়াটার গ্রাহক প্রায় ৬ কোটি এবং পুরো আজিয়াটা গ্রুপের মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি জানিয়ে নিক বলেন, “আমরা আমাদের টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাইবার নিরাপত্তা সেবা দিয়ে থাকি।

“উদাহরণ হিসেবে রবির কথা বলা যায়। আমাদের রয়েছে আজিয়াটা সাইবার ফিউশন সেন্টার। এটি মূলত একটি সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার। এর একটি কার্যক্রম শ্রীলঙ্কায় রয়েছে এবং এর প্রধান কার্যালয় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। মূলত আমাদের বিভিন্ন টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমকে একীভূত করে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।”

বাংলাদেশে এর মধ্যেই রবি ফাইভজি কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে নিক বলেন, “বর্তমানে উচ্চ জনঘনত্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বেশি, এমন এলাকাগুলোতেই এর বিস্তার তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।”

টেলিযোগাযোগ খাতের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগে আমরা মূলত ডাউনলোডের গতি ও ডাউনলোড সক্ষমতা নিয়ে কথা বলতাম। কারণ তখন আমরা মূলত ইন্টারনেট থেকে তথ্য গ্রহণ করতাম। কিন্তু এআইয়ের যুগে এখন আপলোডের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ এখন ‘আপলিংক’ সক্ষমতার প্রয়োজনও বাড়ছে। এটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের ধরনেও পরিবর্তন আনছে।

নিক বলেন, “রবি আজিয়াটার মূল ও মৌলিক ব্যবসা এখনও সংযোগ বা কানেক্টিভিটি। বর্তমানে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন। নতুন ও উন্নত সরঞ্জাম স্থাপনের মাধ্যমে এসব এলাকায় নেটওয়ার্কের কাভারেজ ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। অর্থাৎ আমরা কোনোভাবেই স্থির হয়ে নেই। আমাদের কার্যক্রমের বড় অংশ এখনও কানেক্টিভিটিকে কেন্দ্র করে।

“তবে ৩০ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনার ফলে রবির আরও কিছু ব্যবসায়িক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, বিশেষ করে এন্টারপ্রাইজ আইটি, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ হবে বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে ফাইভজি ও উন্নত স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে এফডব্লিউএ বা ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেসের মতো প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে মূলত বাড়িতে ব্রডব্যান্ডের মতো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।”

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালু করতে গত মাসে প্রাথমিক অনুমোদন পায় আরও পাঁচ প্রতিষ্ঠান। এ তারিকায় রবি আজিয়াটার বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকও আছে।

এ অনুমোদন পাওয়া বিষয়ে নিক রিজাল বলেন, “এই মুহূর্তে গণমাধ্যমে কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা অনুমোদন পাইনি। রবির সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”

এ ক্ষেত্রে অবশ্য শুধু একটি লাইসেন্স থাকাই যথেষ্ট মনে করছেন না তিনি। এর সঙ্গে মূলধন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালনের কঠোরতা প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় খুব একটা ভিন্ন নয় বলে মনে করেন তিনি।

টেলিযোগাযোগ সেবার সঙ্গে যুক্ত ফিনটেক বা আর্থিক সেবা আজিয়াটা গ্রুপের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয় মন্তব্য করে নিক রিজাল বলেন, “আজিয়াটা গ্রুপের অধীনে মালয়েশিয়ায় বুস্ট হোল্ডিংস রয়েছে। তারা প্রথমে একটি ডিজিটাল ওয়ালেটভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স দিয়েছিল, বুস্ট ছিল সেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।”

টেলিকম কোম্পানিগুলো ‘টেককো’তে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। রবিও সেই ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান নিক রিজাল।

“তবে টেককো হওয়ার অর্থ এই নয় যে, রবি আজিয়াটা কিংবা পুরো আজিয়াটা গ্রুপ গিয়ে এআই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে। বরং এর অর্থ হলো, আমরা কীভাবে এআই ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম আরও দক্ষ করব এবং গ্রাহকদের আরও উন্নত সেবা দেব,” বলেন তিনি।

টেককো হিসেবে নিজেদের রূপান্তরের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়াতেও এআই ব্যবহার করছি। এর একটি উদাহরণ হলো, অটোনোমাস নেটওয়ার্ক।

“এআইয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করতে পারি, এর কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারি এবং নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা হলে তা দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা করতে পারি। রক্ষণাবেক্ষণের কাজও যথাযথভাবে নির্ধারণ করা যায়। একপর্যায়ে নেটওয়ার্ককে ‘সেলফ-হিলিং’ ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ট্রাফিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য পথে পরিচালিত হতে পারে।”



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।