• বৃহস্পতি. অক্টো. 1st, 2026

এবার নোবেল `পাচ্ছেন না ট্রাম্প, তবে প্রভাব থাকবে বিজয়ী মনোনয়নে’

Bytrendnews

অক্টো. 1, 2026


ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিজয়ী মনোনয়নের ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটির ওপর তার স্পষ্ট প্রভাব থাকবে।

গেল বছর ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, নোবেল পুরস্কারের ১২৫ বছরের ইতিহাসে সেটি ছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। পুরস্কারটি পেতে ট্রাম্প বারবার জোর লবিং চালিয়েছিলেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পর মাচাদো তার সোনার নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন। ভেনেজুয়েলায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টায়’ ট্রাম্পের সমর্থন পেতেই তিনি এমনটি করেছিলেন বলে ধারণা।

ওসলোর ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো জানান, ট্রাম্পের চাপ সামলে উঠতে পারবেন, এবার এমন কাউকেই বেছে নিতে সতর্ক থাকবে পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, “গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, বিশেষ করে ট্রাম্পের হাতে মাচাদোর পদক তুলে দেওয়ার বিষয়টিকে এবার কমিটি বিবেচনায় রাখবে বলে আমি মনে করি।”

জেরলো আরও বলেন, “কমিটির প্রধান চিন্তাই হতে পারে, কাউকে পুরস্কৃত করা হলে তিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়বেন কি না। এই সম্মাননা আদতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করবে কি না, তাও ভেবে দেখবে কমিটি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাবনার কারণে নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) কিংবা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টার ফ্রানচেস্কা আলবানিজ।

৯ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান সংঘাতের সমালোচনা করেছিলেন। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেন। তবে পোপ লিও জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেই যাবেন।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পোপের নোবেল পাওয়ার জোরালো যুক্তি আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে তার অনুশাসনপত্র, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও আলোচনার আহ্বান, শরণার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ডাক এবং মানবিক কাজ তাকে এই দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।

রয়টার্সকে ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, “পোপ কেবল একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন। তিনি বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীল ভাবনার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে উঠে এসেছেন।”

এদিকে ইতালির নাগরিক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে তাদের দখলাভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

তবে গত বছরের অভাবনীয় ঘটনাগুলো কমিটির ওপর বিপরীত প্রভাবও ফেলতে পারে। এবার তারা এমন কোনো নিরাপদ ও বিতর্কহীন নাম বেছে নিতে পারে, যা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করবে না। গতবার নোবেল না পাওয়ায় নোবেল কমিটি যে দেশে অবস্থিত, সেই নরওয়েকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।

নিরাপদ পছন্দ হিসেবে সুদানের গৃহযুদ্ধের সময় দুর্গতদের ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানকারী স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ অথবা যুদ্ধে শিশুদের রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ নোবেল পেতে পারে।

তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে লেখালেখি করা ঐতিহাসিক ওইভিন্দ স্টেনারসেন জানান, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি ট্রাম্প যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন, সে বিষয়ে কমিটি দৃষ্টি দেবে কি না, তাও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, “ট্রাম্পের বিষয়ে কঠোর হওয়ার একটি চাপ তাদের ওপর রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকালে উদারনৈতিক গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখতে পারে, এমন কাউকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত।”

সূত্রগুলোর মতে, ওয়াশিংটন যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালটিকে পুরস্কৃত করা হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) নোবেল পেলে তা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে শক্তিশালী বার্তা দেবে।

গত বছর কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। তবে জেরলোর মতে, এবার ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই কম’।

নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্প যেভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন, তাতে স্তম্ভিত অনেকেই। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ফিলিপিনো-আমেরিকান সাংবাদিক মারিয়া রেসার মতে, গত বছরের পুরো নাটকীয়তা তিনি দেখেছেন কেবল ‘চরম শঙ্কা’ নিয়ে।

সেপ্টেম্বরে অসলো সফরের সময় রয়টার্সকে রেসা বলেন, “গায়ের জোরে বিশ্ব চলে না। আমাদের চলার নির্দিষ্ট কিছু নীতি ও মানদণ্ড রয়েছে। শক্তি থাকলেই কোনো ভুল বিষয় সঠিক হয়ে যায় না।”



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।