• মঙ্গল. সেপ্টে. 29th, 2026

সব অপরাধ এড়িয়ে শুধু চাঁদাবাজির কথাই বলা হচ্ছে: সালমান মুক্তাদির

Bytrendnews

সেপ্টে. 29, 2026


ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় লুট হওয়া মালামাল যদি উদ্ধার হয়, তাহলে সেগুলো ফেরত দিতে হবে না বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, সব অপরাধ এড়িয়ে শুধু চাঁদাবাজির কথা বলা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ফেইসবুক পেইজে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “যদি বলেন ইনভেস্টিগেশন হয়ে গেছে, ধরে ফেলেছেন—তবে উদ্ধারকৃত মালামাল আমাকে দিতে হবে না। পিএস ফাইভ, ক্যামেরা বা উদ্ধারকৃত মালামাল বিএনপির আন্ডারে কমিউনিটিতে দিয়ে দিন, সোশাল কাজ করেন।”

সালমান মুক্তাদির বলেন, “১৫ বছরের স্বপ্ন ধ্বংস হলেও আমি আবার জিরো থেকে স্টার্ট করে নতুন সালমান মুক্তাদির হতে প্রস্তুত।

“দেশের মানুষের সুবিধার জন্য, শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমার কিছু লাগবে না। আপনারা যা চান, এমনকি সব সম্পত্তি বিক্রি করতে বললেও আমি প্রস্তুত। আসুন, দেশের জন্য ভালো কিছু করি।”

শনিবার রাতে ওই এলাকার নির্মাণাধীন নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় শতাধিক লোকের হামলায় হয়। সেখানে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাংচুর চালানো হয়।

এ ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পুলিশ।

হামলা প্রসঙ্গে সালমান মুক্তাদির বলেন, “একটা প্রায়োরিটি মিস হয়ে যাচ্ছে, ক্রাইম অ্যান্ড নেশনস সেফটি। অর্থাৎ দিস হেজ নেভার বিন অ্যাবাউট মি সালমান মুক্তাদির, ক্রিয়েটর, একজন সিটিজেন অথবা একজন ক্রিয়েটর হোয়াটএভার অথবা বিএনপি কিংবা এনি পলিটিক্যাল পার্টিস, ইট ওয়াজ সাপোজ টু বি অ্যাবাউট, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কি, যেখানে আমি একজন প্রিভিলেজড হওয়ার পরও সেফটিটা পেলাম না।

“আমি একজন প্রিভিলেজড হওয়ার পরেও কোনো রকমের রেসপন্সিভনেস, সিনসিয়ারিটি, অথেন্টিসিটি, কোনো রকমের এমপ্যাথি, কাইন্ডনেস কিছু পেয়েছি নাকি, সেই কোশ্চেনটা।”

তার ভাষ্য, “আই ওয়ান্ট টু বি ভেরি কেয়ারফুল অ্যান্ড খুব ক্লিয়ারলি আমি রিপ্রেজেন্ট করতেছি বাংলাদেশকে। সালমান মুক্তাদিরকে না, কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকে না, পপুলারিটিকে না, প্রিভিলেজকে না; শুধু বাংলাদেশের বর্তমান এনি সিটিজেন, ছেলেমেয়ে, বুড়া-বৃদ্ধ—যেটা আগেও বলছি—এনি সিটিজেন, এই জিনিসটা আপনাদেরকে নিয়ে।”

স্টুডিও ভাংচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সমালোচনার বিষয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, “একজন বলে ফেলছেও যে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্থাপনা, অর্থাৎ তিনি বিষয়টি সম্পর্কেও জানেনও হয়তো-ওই টিনশেড স্থাপনা যদি ভেঙেও থাকে, ভালোই হয়েছে।…তিনি একটা ন্যাশনাল মিডিয়াকে বলেছেন যে এটা ভালোই হয়েছে।

“আরেকজন বলল, দেখলাম যে উনি খাতা-কলম নিয়ে দাগিয়ে দিচ্ছিলেন, খাতা বইয়ের দুই পৃষ্ঠা পড়ার পর বলছে যে, এই যে দেখেন আমি পয়েন্ট আউট করলাম সালমান মুক্তাদির কি জিনিস।”

তিনি বলেন, “বিএনপি প্রবাবলি বাংলাদেশের প্রথম কোনো পলিটিক্যাল পার্টি যেখানকার নেতাকর্মীরা অ্যাকচুয়েছিল শিক্ষিত, বই নিয়ে তারা ইন্টারভিউতে আসেন, দাগায় আমাকে পয়েন্ট আউট করার জন্য।”

এটিকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, যদি সামনাসামনি থাকতে পারতাম তবে এটা একটা ইন্টেলেকচুয়াল আর্গুমেন্ট হতে পারত।

“তিনি আমাকে বস্তি হিসাবে বলেছেন, আমি মাইন্ড করিনি, তিনি বলছেন একজন টিকটকার, মাইন্ড করিনি। এরকম অনেক নামে ডেকেছেন। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমার ওনাকে সম্মান করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। বিকজ উনি, ওনার সবকিছু ছেড়ে দেশের মানুষের সেবা করতে এ কাজগুলা করছেন।”

তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে বিএনপির এ লেভেলের যারা আছে নেতাকর্মীরা, তারা যারা নিউজ মিডিয়াতে আসছেন, জার্নালিস্ট হোক, উপদেষ্টা হোক বা উপদেষ্টাদের আন্ডারে যারা আছেন।

“যারা যারা এতগুলা ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছেন, প্রেস মিডিয়া হোক, ইন্টারনেট হোক পুরা মিডিয়ার যে রিলসটাতে এখানে কোথাও আমি মানুষ, বা যে ক্রাইমটা ঘটে গেছে, যে বন্দুক, যে যুদ্ধ, যে দখলদারিত্ব, যে ক্লেইমস, যে সংজ্ঞাগুলা, যাত এভিডেন্সগুলা সবকিছু এড়ায় গিয়ে চাঁদাবাজ, চাঁদাবাজ…এতবার এটা যে নিজেরা বলছে যে আপনার যে চাঁদাবাজি ব্র্যান্ডিংটা আমার চেয়ে আপনারা বেশি করে ফেলছেন অ্যাট দিস পয়েন্ট।”

এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, “আমার অফারটা হচ্ছে, আপনারা একটা কমন ন্যারেটিভে আসেন, সেটাওকে রেসপন্ড করতে পারি, আপনারা যান চান। আর যদি আপনারা বলেন যে না, আমি সবগুলো ন্যারেটিভকে আলাদা আলাদা করে আপনাদেরকে বললে আপনারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা এবং এই ক্রাইমটাকে অ্যাকনলেজ করতে পারেন এবং বেটার করতে পারবেন ফর দ্য পিপল, আমি সেটা করতেও রাজি আছি।”

এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে রাজি আছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সেটা বলতে চান।

নাগরিক হিসেবে তিনি আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ বিষয়ে সাড়া দিতে চান তুলে ধরে সালমান মুক্তাদির বলেন, তিনি চান দেশে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত হোক।

প্রায় ১২ মিনিটের ভিডিও বার্তায় সালমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।

সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, “এখানে তিন লেভেলের লোক আছে। উপরের মহল, নিচের অ্যাটাকিং মোডের কর্মী এবং মাঝখানের লেয়ার। আমি মাঝখানের লেয়ার থেকে পজিটিভ কিছু পেয়েছি। যখন র‍্যাব, ডিজিএফআই বা পুলিশ কথা বলল, তাদের ব্যবহারের মধ্যে চেঞ্জ দেখতে পেয়েছি। আগের মতো পাওয়ার দেখানো বা খবরদারিত্ব ছিল না।

“ডিজিএফআই থেকে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার পেয়েছি, তারা সম্মান দিয়ে কথা বলেছে এবং সহমর্মিতা জানিয়েছে। তবে এই বিহেভিয়ার যদি এক্সিকিউশনে কাজে না লাগে আর ওপর ও নিচের মহলের প্রেসার থাকে, তবে কাজ হবে কীভাবে?”

ভিডিওতে অনলাইন জগতে আলোচিত সালমান বলেন, তিনি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামনে আরো ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করবেন।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।