
কুমিল্লায় মিছিলে মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সঙ্গে আলোচিত ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ রতনের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দল ও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ছাত্রদল নেতা।
সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মহসিন দাবি করেন, মিছিলটি ছিল বিভিন্ন ইউনিটের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বড় একটি বিক্ষোভ মিছিল। সেখানে রতন কীভাবে পেছনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন, তা তিনি জানতেন না।
রতনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের এই নেতা।
২০১৫ সালের পর থেকে কুমিল্লা নগরে যে কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’ আলোচনায় এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘রতন গ্রুপ’। আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যার মতো ঘটনায় এ গ্রুপের নাম বারবার আলোচনায় এসেছে।
এ গ্রুপের প্রধান হিসেবে পরিচিত রতন কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করে জেলেও খেটেছেন। রতনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা মহানগর ও জেলা ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড, বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে; যেখানে সামনের সারিতে থাকা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মহসিনের পেছনের সারিতে রতনকে হাঁটতে দেখা গেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
তবে মিছিলে রতনের উপস্থিতিকে নিজের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন মহসিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মিছিলের শুরুতে ছিলেন মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এরপর মহানগর ছাত্রদল ও জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে তিনি সামনের সারিতে নেতাদের সঙ্গে ছিলেন। তার পেছনের অংশে ছিলেন বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মহসিন বলেন, “এইখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি মিছিলে সবাইকে চেনা খুব কষ্টের ছিল। আমরা মিছিল নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। রতনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।”
তিনি বলেন, মিছিলে কারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যার পর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে প্রশাসন। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির মিছিলে রতনের উপস্থিতির ভিডিও সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এর আগে মিছিলের ছবি সামনে আসার পর মহসিন জানিয়েছিলেন, তিনি রতনকে চেনেন না এবং দলীয় কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিকে সমর্থন করা হয় না।
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানাও জানিয়েছিলেন, দলীয় কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মহসিনের বক্তব্য অনুযায়ী, বড় পরিসরের এ মিছিলে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কারণে প্রত্যেকের পরিচয় যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে দলীয় কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কীভাবে যুক্ত হলো, সেটি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, রতনের বিরুদ্ধে ছিনতাই-মারামারিসহ একধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
