
মতিউর রহমান চৌধুরী: সুপ্রিয় দর্শকমণ্ডলী, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেড আজকের সংবাদপত্রে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে রয়েছেন প্রথম আলো সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান। ২৭ পেরিয়ে ২৮ বছরে পড়ল প্রথম আলো। অভিনন্দন আপনার টিমকে, নেপথ্যের কারিগর যাঁরা, তাঁদেরও। আর বিশেষভাবে আপনাকে অভিনন্দন, দেশের একমাত্র, মানে প্রথম শ্রেণির দৈনিক; শুধু সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকে পরিণত করেছেন সে জন্য। তো, শুনব আপনার সেদিনের কাহিনিগুলো কী? এবারের একটা লেখাও আছে ‘নতুন দিনে সত্যই সাহস’।
এই সত্যই সাহসটা কীভাবে দিল? এইটা আপনি মানে কী চিন্তা করে লিখলেন?
মতিউর রহমান: আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।
২৭ বছর তো আমাদের কাগজ আমরা অতিক্রম করলাম, পূর্ণ করলাম। ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে যখন আমরা পত্রিকা শুরু করি, তখন আমরা কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম। এ বিষয়ে আমাদের তৎকালীন চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, তিনি এবং আমরা ঠিক করেছিলাম, এই পত্রিকাটাকে আমরা একটা দলনিরপেক্ষ ও স্বাধীন পত্রিকা হিসেবে দাঁড় করাতে চাই এবং আমরা সত্য কথা বলব। আমরা এই লক্ষ্য নিয়ে কাগজ শুরু করি। ২৭ বছর পর এসে আমরা বলতে পারি, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে কাগজটা শুরু করেছিলাম, সেখানে আমরা দৃঢ় ছিলাম। আমরা সত্যের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলাম এবং সত্য কথা বলার চেষ্টা করেছি।
আমরা এটা বলব না যে সব সময়, সব আমলে, সব সরকারের সময় আমরা সব সত্য কথা বলতে পেরেছি। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আমরা অনেক সত্য কথা বলতে পারিনি। যতটুকু বলার চেষ্টা করেছি, তাতে আমাদের যথেষ্ট চাপের মুখে, বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে। আমাদের প্রচারসংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছে। আমাদের সরকারের অনেক বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ব্যক্তি খাতের প্রায় ৫০টি কোম্পানির বিজ্ঞাপনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে প্রথম আলো আওয়ামী লীগের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু, দেশের শত্রু। সরকার চেষ্টা করেছিল প্রথম আলোর মালিকানা কেড়ে নিতে, সরকার চেষ্টা করেছিল সম্পাদককে বদল করে দিতে। এসব অবস্থার মধ্যে গিয়ে আমরা টিকে আছি। কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এসব প্রশ্নের পেছনে শক্তি ওই সত্য। আমরা সত্য কথা বলার চেষ্টা করেছি; এবং সত্য বললে আপনি টিকবেন, আপনি চলতে পারবেন। আমাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে, কিছু এখনো রয়েছে। কোনো মামলায় কিন্তু আমাদের অপরাধী হিসেবে শাস্তি দিতে পারেনি; কারণ, আমাদের তথ্য, খবর, সংবাদ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। সে জন্যই বলি, আমরা সত্য কথা বলি। এখন আমরা বলছি, এখন প্রয়োজন ‘সত্যই সাহস’।