নিখোঁজের পর মেলে মরদেহ, নিখোঁজই থেকে যায় অনেক শিশু
শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম/জাগো নিউজ গ্রাফিক্স
কুমিল্লায় সম্প্রতি নিখোঁজের পরদিন মরদেহ মেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। এ ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে দেশজুড়ে। একই দিন সুনামগঞ্জে অচেতন বাবার পাশ থেকে নিখোঁজ থাকা তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মানিকগঞ্জে মা-বাবার মরদেহের পাশ থেকে দেড় বছরের আলিজা নূরের নিথর দেহও উদ্ধার করা হয় একই দিন। সে-ও নিখোঁজ ছিল। এসব ঘটনা আলাদা হলেও এই পাঁচ শিশুই হয়েছে নৃশংস হত্যার শিকার।
দেশের কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এমন ঘটনা। কোনো শিশু হচ্ছে হত্যার শিকার, কেউ নৃশংসতার মুখোমুখি, আবার কেউ নিখোঁজ হয়ে থাকছে নিখোঁজই। কোনো মা আছেন সন্তানের ফেরার অপেক্ষায়, কোনো বাবা পাগলের মতো ছুটছেন দিগ্বিদিক। আবার কোনো পরিবারে নেমে আসছে ঘোর অমানিশা।
অবস্থা এমন যে ঘরের চৌকাঠ পেরোলেই অনিশ্চয়তা, বাইরে পা রাখলেই আতঙ্ক- কখন, কোথায়, কীভাবে হারিয়ে যাবে আদরের সন্তান, সেই শঙ্কা যেন প্রতিনিয়ত তাড়া করছে পরিবারগুলোকে।
৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যও সেই উদ্বেগের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই- মাত্র সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশু কিংবা ফিরে এসেছে পরিবারের কাছে। কিন্তু এখনো নিখোঁজ দুই হাজার ৩৮ শিশু, অর্থাৎ নিখোঁজ হওয়া শিশুদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো তাদের পরিবারে ফেরেনি।
এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি সংখ্যা একটি করে পরিবার, একজন মায়ের অপেক্ষা, একজন বাবার উৎকণ্ঠা কিংবা ভাই-বোনের শূন্যতা। তবে এই দুই হাজার ৩৮ শিশুর মধ্যে কতজন জীবিত, কারও মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কি না- তার আলাদা কোনো হিসাব নেই পুলিশ সদর দপ্তরে। ফলে নিখোঁজের এই পরিসংখ্যানের আড়ালে ঠিক কতটি পরিবারের কান্না, কতটি শিশুর অজানা পরিণতি লুকিয়ে আছে সেটিও রয়ে গেছে অন্ধকারে।
শিশু অধিকার ও নিরাপত্তার বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ
শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন সবশেষ ২০২৫ সালে এই তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সবশেষ প্রতিবেদনে ভারতের অবস্থান ৯৬, পাকিস্তান ১৫৫, গ্রিস প্রথম এবং আফগানিস্তান সর্বনিম্ন স্তরে (১৯৪তম)।
শিশুদের জীবনের অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিরাপত্তা ও অধিকার ভোগ করার পরিবেশ- এই পাঁচটি বিষয়ে ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। একে বলা হচ্ছে ‘কিডস রাইটস ইনডেক্স’। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করা দেশকে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছে।
কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও একাডেমিক যৌথ উদ্যোগ। নেদারল্যান্ডসের ইরাসমাস ইউনিভার্সিটি রোটেরডাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ যৌথভাবে ২০১০ সালে এ উদ্যোগ শুরু করে।
মাসে মিলছে ৩১ জন শিশুর মরদেহ: আসক
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানুয়ারি-আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় ২৫৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হিসাবে মাসে ৩১ জনের বেশি শিশুর মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ৮১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার ৪৯ জন। এই আট মাসে নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ৩৬ শিশুর।
নিহত ২৫৪ শিশুর প্রায় ৪৩ শতাংশ ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী। শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু ৭৪ জন। এটি মোট নিহতের প্রায় ২৯ শতাংশ। কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি ছোট শিশুরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ৭ থেকে ১২ বছরের ৬০ জন সহিংসতার শিকার হয়েছে। আসক বলছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সূত্র থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের এ তথ্য পেয়েছে তারা।
নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল, দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত- এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।-আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান
আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল, দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত- এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সংবিধান, জাতীয় শিশু নীতি, শিশু আইন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
যে তথ্য দিচ্ছে পুলিশ
নিখোঁজের তথ্যের বিষয়ে পুলিশ বলছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু করেছে পুলিশ। এতে নিখোঁজের বিষয়ে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজের বিষয়ে ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর নিখোঁজের ৯০ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের আলাদা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে দুই হাজার ১৫৬টি, জুলাইয়ে দুই হাজার ৩৩৬, জুনে দুই হাজার ২০০, মে মাসে এক হাজার ৯৫২, এপ্রিলে দুই হাজার ১১, মার্চে এক হাজার ৪৮৫, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ১৮১ ও জানুয়ারিতে এক হাজার ২৮১টি।
কেউ ফিরছে, কারও পরিবার পথ চেয়ে
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ হয় হাবিবুল্লাহ নাঈম নামে ১২ বছরের এক শিশু। এ ঘটনায় তার মা থানায় জিডি করেছেন। তবে গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি পরিবার। তাদের বাড়ি নাটোরে। তার বাবা বাবুল ইসলাম, মা শরীফা খাতুন। সে পরিবারের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুর্মিটোলা স্কুল রোড এলাকায় থাকত।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা কাজীপাড়ার সুমন মার্কেট এলাকা থেকে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু আলিফের খোঁজও পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় জিডি হয়েছে।
তবে নিখোঁজ অনেক শিশুর পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পরপর থানার পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তাদের তৎপরতা তাৎক্ষণিক শুরু হয় না। কখনো কখনো পুলিশ জিডি নিতেও অনীহা দেখায়। তারা আগে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খুঁজতে বলে। এরপর না পাওয়া গেলে জিডি করার পরামর্শ দেয়।
চাঁদপুরের মতলব থেকে ৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসাছাত্র সাবের ইসলাম শাফি (১০) মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দুদিন পর স্থানীয় থানায় শিশুটির বাবা সোহেল প্রধান জিডি করেন।
সাবের ইসলাম শাফির পোশাকশ্রমিক মা সাথী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি থানায় গেলে পুলিশ কেবল বলে দেখতেছি। কিন্তু রাস্তার সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত একবার দেখলো না তারা। ১৫ দিনেও পুলিশ কিছু বলতে পারছে না।
সাথী আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ও মতলব থানার উপপরিদর্শক শুভজিৎ পাল জাগো নিউজকে বলেন, ছেলেটা রাগ করে হয়তো চলে গেছে, হয়তো লেখাপড়া ভালো লাগে না, তাই নিজে কোথাও পালিয়ে আছে। তার সঙ্গে মোবাইল নেই। তাই কোনো কিছু পাচ্ছি না।
স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ, এক বছর পর কিশোরী উদ্ধার
রাজধানীর বংশাল থেকে নিখোঁজের এক বছর পর এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে বংশাল থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বাবা মো. জিন্নাত বংশাল থানায় জিডি করেন।
জিডির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্তের পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে ডিএমপির শাহ আলী থানা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে সহযোগিতা করছে মুন অ্যালার্ট নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তারা শিশুদের নিখোঁজের বিষয়ে অ্যাপস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যালার্ট জারি করে। এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন। দুই বছর ধরে সংস্থাটি কাজ করছে।
‘পুলিশের আলাদা সেল গঠন করতে হবে’
মুন অ্যালার্টের সভাপতি মো. সাদাত রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিখোঁজদের পরিবার থানায় গেলে জিডি করা নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার জিডি হলেও দ্রুত খোঁজার কাজে বিলম্ব হয়। নিখোঁজের তিন ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা সহজ। ওই সময় পেরিয়ে গেলে বিষয়টি জটিল হয়। কখনো কখনো থানা থেকে আগে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খুঁজে এসে জিডি করতে বলা হয়।’
তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের খুঁজে পেতে পুলিশের আলাদা সেল গঠন করতে হবে। যেন সঙ্গে সঙ্গে তারা কাজ শুরু করতে পারে। সেই লজিস্টিক সাপোর্টও তাদের থাকতে হবে।’
কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকরভাবে তৎপর হলে অনেক নৃশংস ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে থানা-পুলিশ নিখোঁজের ঘটনায় জিডি বা মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখায়। অপরাধের পরিসংখ্যান কম দেখানোর প্রবণতা থেকেই এমনটি হয়।-এমএসএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অপহরণের তুলনায় নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা বেশি। অনেক পরিবার সন্তান নিখোঁজ হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানায় না। বিশেষ করে জয়পুরহাটে এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। সেখানে এমএসএফের কর্মীরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি। তবে আইনি সহায়তা বা জিডি করতে কোনো বাধার মুখে পড়লে এমএসএফ সহযোগিতা করবে।’
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকরভাবে তৎপর হলে অনেক নৃশংস ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে থানা-পুলিশ নিখোঁজের ঘটনায় জিডি বা মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখায়। অপরাধের পরিসংখ্যান কম দেখানোর প্রবণতা থেকেই এমনটি হয়।’
তিনি বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশকে আরও আন্তরিক ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার সব পক্ষকেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুরা যেন বিপদে পড়লে নির্ভয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় ও সহযোগিতা চাইতে পারে সেই নিশ্চয়তাও তৈরি করা জরুরি।’
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। নিখোঁজের ঘটনায় করা প্রায় ৯০ শতাংশ জিডিরই নিষ্পত্তি হয় এবং সংশ্লিষ্ট শিশুদের খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। তবে বাকি ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয় না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু শিশু নিজের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিয়ে করে কিংবা আত্মগোপনে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসব নিখোঁজের ঘটনা অনেক সময় সমাধান করা সম্ভব হয় না।’
টিটি/এএসএ/ এমএফএ
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২:০১ পিএম
জামায়াতকে ‘অকৃতজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম…