
মধ্যাহ্নভোজের সেই বার্তা মেজর জিয়া ব্রিগেডিয়ার মজুমদার ও আওয়ামী লীগ নেতা এম আর সিদ্দিকীর সঙ্গে বিনিময় করেছিলেন। অন্যদিকে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে ঢাকার সেনা সদরে ডেকে পাঠায় পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষ। সেনানিবাসে রিপোর্ট করার আগেই শেখ মুজিবুর রহমানকে পুরো পরিস্থিতি ও চট্টগ্রামের বিদ্রোহ প্রস্তুতির কথা জানান ব্রিগেডিয়ার মজুমদার। এরপর ২৫ মার্চ সকালে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে হাজির করা হয়েছিল জেনারেল টিক্কা খানের সামনে। যেখানে তাঁকে সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস না করার জন্য ভর্ৎসনা করা হয়। এরপর ব্রিগেডিয়ার মজুমদার গিয়েছিলেন জয়দেবপুরে। সেখান থেকে ফেরার পর তিনি নিশ্চিত হন, আর সময় নেই। লাল ফিতা উড়িয়ে দেওয়ার (বিদ্রোহ ঘোষণার) এটাই চূড়ান্ত সময়।
গ্রন্থটিতে এরপর চট্টগ্রামে বিদ্রোহের শ্বাসরুদ্ধকর বিবরণ আছে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ইপিআরে ক্যাপ্টেন রফিক এবং অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে মেজর জিয়া বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। বিদ্রোহ হয় ইবিআরসি কেন্দ্রেও। যদিও সেখানে রাত একটার দিকেই ২০তম বালুচ রেজিমেন্ট ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আগেই হামলা চালায়। যাতে শহীদ হন লে. কর্নেল চৌধুরি।
গ্রন্থটিতে যুদ্ধদিনে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারের ওপর অকথ্য নির্যাতনের বর্ণনা আছে। উল্লেখ্য, ঢাকায় আটক করার পর ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে পশ্চিম পাকিস্তানে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিদ্রোহ ও দেশদ্রোহের বিষয়ে পরিকল্পনা ও নানা অভিযোগ স্বীকার করে নিতে পাকিস্তানি বিভিন্ন বাহিনী তাঁর ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিয়েছিল; যা পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।
গ্রন্থটিতে সোয়াত জাহাজে অস্ত্র খালাসের অধ্যায়টি ছোট। সম্ভবত এ বিষয়ে পাঠকের জানার আগ্রহ আরও গভীর।
-
১৯৭১: চট্টগ্রাম বিদ্রোহ ও ব্রিগেডিয়ার মজুমদার
মুহাম্মদ লুৎফুল হক
প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশ: এপ্রিল ২০২৫
প্রচ্ছদ: মাসুক হেলাল
পৃষ্ঠা: ৯৬; মূল্য: ২৮৫ টাকা