
ভারতের জয় করা ছেলে ও মেয়েদের এশিয়া কাপের ট্রফি এখন কোথায় সংরক্ষিত, খানিকটা ধোঁয়াশা আছে তা নিয়ে। তবে ভারতীয় বোর্ডের বিশ্বাস, ট্রফি দুটি তারা ফিরে পাবেই। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া নিশ্চিত, ট্রফি দুটির চূড়ান্ত ঠিকানা হবে মুম্বাইয়ে তাদের সদর দপ্তর।
দুবাইয়ে সদ্য সমাপ্ত নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে জয়ের পর ভারতীয় দল পদক ও ট্রফি নেয়নি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিএসি) সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে। গত সেপ্টেম্বরে একই ভেন্যুতে ছেলেদের এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের জয়ের পরও একই দৃশ্যই দেখা গিয়েছিল। ভারতের দুটি দলই ট্রফি ছাড়া উদযাপন করেছে।
এসিসি প্রধান নাকভি একইসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ও এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তাই দুই দফায় তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারতীয় দল।
চলতি এশিয়ান গেমস ক্রিকেটেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এশিয়ান গেমসের আয়োজক অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া এবং স্বাগতিক জাপান হলেও টুর্নামেন্টটি এসিএসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে নাকভির থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ছেলে ও মেয়ে, দুই বিভাগেই ভারতের মূল দল অংশগ্রহণ করছে এবং পদক জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
মুম্বাইয়ে শুক্রার বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাইকিয়া বলেন, এশিয়া কাপের দুটি ট্রফি তারা নিজেদের কাছে ফিরে পাবেনই।
“এশিয়া কাপের ট্রফি… আমরা আশা করি, একদিন তা আসবে। আমি আপনাদের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেব না, তবে আমি আশ্বাস দিতে পারি যে, দুটি ট্রফিই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অবস্থিত এই বিসিসিআই প্রধান কার্যালয়ে এসে পৌঁছাবে।”
এসিসি সভাপতি হিসেবে নাকভি তার মেয়াদের শেষ দিকে আছেন। আগামী এপ্রিলে শেষ হবে তার দুই বছরের দায়িত্ব। পর্যায়ক্রম অনুযায়ী, পরের সভাপতির মনোনয়ন দেবে বিসিবি এবং সেই অনুযায়ী, পরবর্তী এসিসি সভাপতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে তামিম ইকবালের।
গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পগেলগামে সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পর দুই দেশের যুদ্ধ ও উত্তেজনার জের ধরে ক্রিকেট সম্পর্কও তলানিতে পৌঁছেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে এই দুই দলের লড়াইয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার ব্যাপার তো আছেই। দুটি এশিয়া কাপেই ফাইনাল শেষে শুধু রানার্স আপ দল ট্রফি ও পদক নেয়।
এবার উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে সাইকিয়া বলেন, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার কথা তারা আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন এসিসিকে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
“আমাদের পুরুষ দল দেড় বছর আগে এশিয়া কাপ জিতেছিল… তবে গত বছরের এপ্রিলে পহেলগাম হামলার পর থেকে পুরো পরিস্থিতিটাই পাল্টে যায়। আমাদের নাগরিকদের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর চাপ আছে যে, আমরা যেন আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখি এবং তাদের সঙ্গে ক্রিকেট না খেলি। যদিও আমাদের সরকারের একটি নীতি আছে যে, বহুজাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে আমাদের অবশ্যই প্রতিটি দেশের বিরুদ্ধে খেলতে হবে…
কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের জন্য রাখা প্রতিটি শর্ত আমরা মেনে চলব। আমাদের সামরিক সংঘাত এখনও চলছে। আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা প্রধান নেতাদের একজনের কাছ থেকে আমরা ট্রফি গ্রহণ করতে পারি না। গত বছর পুরুষ দলের নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে এবার নারী দলও সংহতি প্রকাশ করেছে।”