• বৃহস্পতি. সেপ্টে. 17th, 2026

হারিয়ে যাওয়া শিশুকে খুঁজে পাওয়ার উপায় কী?

Bytrendnews

সেপ্টে. 17, 2026


চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর। একটি শিশু কখন, কোথায় নিখোঁজ হলো, সেটি জানার পর শুরু হয় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা। থানায় জিডি, সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে খোঁজ, পরিচিতদের জানানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

নিখোঁজের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুটির ছবি ও পরিচয় যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। এই জায়গাতেই কাজ করছে মুন অ্যালার্ট। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর যাচাই করে তার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সম্ভাব্য অনুসন্ধান এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে এ উদ্যোগ।

নিখোঁজ শিশুর তথ্য পৌঁছে যায় আশপাশের মানুষের ফোনে

নিখোঁজ শিশুর ছবি শুধু পরিবারের পরিচিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাব্য অনুসন্ধান এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য হলো, কেউ শিশুটিকে কোথাও দেখে থাকলে যেন ছবির সঙ্গে মিলিয়ে চিনতে পারেন এবং দ্রুত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। নিখোঁজ শিশুর তথ্য যাচাইয়ের পর মুন অ্যালার্ট সেটি মেটাকে জানায়। এরপর শিশুটিকে যেখানে সর্বশেষ দেখা গেছে, সেই এলাকার আশপাশের ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে যায় সতর্কবার্তা। ফোনে ভেসে ওঠে, ‘ফাইন্ড আ মিসিং চাইল্ড ইন ইওর এরিয়া’।

শিশুটিকে সর্বশেষ যেখানে দেখা গেছে, সেখান থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছায়। ফলে অনুসন্ধানে যুক্ত হন ওই এলাকার সাধারণ মানুষও। কেউ শিশুটিকে রাস্তায়, বাজারে, গণপরিবহনে বা অন্য কোথাও দেখে থাকলে সতর্কবার্তায় পাওয়া ছবির সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি জানাতে পারেন। এর জন্য রয়েছে ১৩২১৯ নম্বরের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ও অনলাইন রিপোর্টিং ব্যবস্থা। সম্প্রতি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে সতর্কবার্তা। টিকটক ব্যবহারকারীদের কাছেও একইভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে।

মুনতাহার মৃত্যুর পর যে উদ্যোগের শুরু

মুন অ্যালার্টের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাঁচ বছর বয়সী মুনতাহা আক্তারের ঘটনা। ২০২৪ সালে সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায়। মুনতাহার ঘটনায় আবারও সামনে আসে নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা। সেই ভাবনা থেকেই মুন অ্যালার্টের উদ্যোগ। মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন, সংক্ষেপে মুন অ্যালার্ট। মুনতাহার স্মরণেই নামটি রাখা হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে। উদ্যোগটির প্রধান সমন্বয়কারী আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সাদাত রহমান। তিনি অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের আহ্বায়ক এবং জিরো মিসিং চিলড্রেনের সভাপতি।

নিখোঁজের খবর যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

কোনো শিশু নিখোঁজ হলে তার নাম, বয়স, সাম্প্রতিক ছবি, শেষ কোথায় ও কখন দেখা গেছে, কী পোশাক ছিল এবং পরিবারের যোগাযোগের তথ্য নেওয়া হয়। ১৩২১৯ নম্বরে ফোন করে অথবা অনলাইনে এই তথ্য দেওয়া যায়। তথ্য যাচাইয়ের পর কেস তৈরি করা হয়। এরপর শিশুটির ছবি ও পরিচয় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় সম্ভাব্য অনুসন্ধান এলাকার মানুষের কাছে। সাদাত রহমান বলেন, ‘মুন অ্যালার্টে জানানোর পাশাপাশি থানায় যোগাযোগ করাও জরুরি। কারণ এটি পুলিশের বিকল্প নয়। এর উদ্দেশ্য হলো অনুসন্ধানের সঙ্গে আরও মানুষকে যুক্ত করা।

সতর্কবার্তা পেয়ে মুসকানকে চিনেছিলেন একজন

মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশন থেকে পাঁচ বছর বয়সী মুসকান ও তার আট বছরের ভাই সাঈদ নিখোঁজ হয়েছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। মুন অ্যালার্টেও তাদের তথ্য প্রচার করা হয়। মুসকানের ছবি দেখানো হয় বিভিন্ন ডিজিটাল বোর্ডে। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর সদরঘাটের একটি লঞ্চ থেকে মুসকানকে উদ্ধার করা হয়। তাকে খুঁজে পেতে পুলিশি অনুসন্ধানের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য কাজে আসে। এই ঘটনায় মুন অ্যালার্টও অনুসন্ধানের একটি মাধ্যম হিসেবে যুক্ত ছিল। নিখোঁজ শিশুর ছবি ও তথ্য যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তাকে কোথাও দেখে ফেলার সুযোগও তত বাড়ে।

হারানো শিশুর তথ্য প্রচার করতে প্রয়োজন যে তথ্য

নিখোঁজ শিশুর তথ্য দিতে প্রয়োজন তার সাম্প্রতিক ছবি, নাম, বয়স, সর্বশেষ কোথায় ও কখন দেখা গেছে, পরনের পোশাক এবং পরিবারের যোগাযোগের নম্বর। এসব তথ্য ১৩২১৯ নম্বরে ফোন করে জানানো যায়। অনলাইনেও রিপোর্ট করার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পরেও যে সমন্বয় জরুরি

মুন অ্যালার্টের সঙ্গে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কও ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও অ্যাপও মুন অ্যালার্টের সাথে কাজ করছে। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি শিশুর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া আর মাঠপর্যায়ে তাকে খুঁজে বের করা এক বিষয় নয়। এর মাঝখানে রয়েছে তথ্য যাচাই, কেস গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি।

এই সমন্বয় নিয়ে মুন অ্যালার্ট ও পুলিশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। মুন অ্যালার্টের পক্ষ থেকে পুলিশের সঙ্গে আগের তুলনায় সমন্বয় কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, মুন অ্যালার্ট এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকারি সহযোগিতা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়। ফলে একটি সতর্কবার্তা কত দ্রুত মানুষের ফোনে পৌঁছাল, তার পাশাপাশি সেটি মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত হচ্ছে, সেটিও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম কয়েক ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ

নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্বের কথা বারবার উঠে আসে। মুন অ্যালার্টের প্রধান সমন্বয়কারী সাদাত রহমানও মনে করেন, শিশুটির ছবি যত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তাকে দেখে চিনে ফেলার সুযোগ তত বাড়ে। তবে একটি শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পরও অনুসন্ধানের কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। কেন সে নিখোঁজ হয়েছিল, কোথায় ছিল, তার সঙ্গে কী ঘটেছিল। এসব তথ্য জানা পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মুন অ্যালার্টের ওয়েবসাইটে সক্রিয় কেস ছিল ১৪৯টি। এসব কেসের কোনোটিতে পরিবার ও পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে, কোথাও স্থানীয় মানুষও যুক্ত হচ্ছেন। নিখোঁজ শিশুর খোঁজে মুন অ্যালার্ট মূলত সেই অনুসন্ধানে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি অতিরিক্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।