
বেশ কিছুদিন আগে করা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটির) একটি ছোট গবেষণার কথা হয়তো অনেকের মনে আছে। সে গবেষণায় তিনটি দলকে রচনা লিখতে দেওয়া হয়।
একটি দল এলএলএম বা এআই ব্যবহার করেছে, দ্বিতীয় দলটি সার্চ ইঞ্জিন বা গুগল ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে তৃতীয় দলটি কোনো ডিজিটাল টুল ব্যবহার করেনি। রচনা লেখার সময় শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের কার্যাবলি লক্ষ করা হয়। দেখা গেল যারা কোনো ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করেনি, তাদের মস্তিস্ক অন্যদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এমনকি এলএলএম ব্যবহারকারীদের নিজেদের লেখা পরে মনে করার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক সমস্যা দেখা গেছে।
গবেষণাটি ছোট ও প্রাথমিক বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো নেওয়া যায় না। কিন্তু আগের প্রশ্নটিই থেকে যাচ্ছে—কাজ সহজ করতে গিয়ে আমরা কি চিন্তা করার কাজটাও এআইকে দিয়ে দিচ্ছি?
এ ক্রান্তিকালে শুধু শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের নিয়ম শেখালেই হবে না। শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকাও নতুন করে ভাবতে হবে। আগে সন্তান একটা অঙ্ক না পারলে হয়তো মা–বাবা পাশে বসে অঙ্কটা করে দিতেন। এখন আরও সহজ। মুঠোফোন বের করে ছবি তুলে এআইকে দিলেই হলো। দুই ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ভালো। আমরা সন্তানকে সাহায্য করতে চাই। কিন্তু সাহায্য করা আর তার হয়ে কাজটা করে দেওয়া এক জিনিস নয়।
একজন ভালো শিক্ষক সব সময় উত্তরটা বলে দেন না। তিনি হয়তো জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কীভাবে শুরু করার কথা ভাবছ?’ অথবা বলেন, ‘এই জায়গাটা আরেকবার দেখো।’ কখনো শুধু একটা ধারণা দেন।
এআইয়ের ব্যবহারও হয়তো তেমন হতে পারে। কোনো অঙ্ক নিয়ে তাকে বলা যায়, ‘উত্তরটা বলে দিয়ো না। আমাকে একটা ধারণা দাও।’ নিজের সমাধান দেখিয়ে বলা যায়, ‘কোথায় ভুল করেছি, শুধু সেটা বলো।’ কিংবা বলা যায়, ‘আমাকে এমন একটা প্রশ্ন করো, যাতে পরের ধাপটা আমি নিজেই বের করতে পারি।’