
শেকড়ের সন্ধানে
২০ আগস্ট ‘মুল্লুক’ শিরোনামে গানটি প্রকাশ করেছে কোক স্টুডিও বাংলা। গানটি গেয়েছে মেঘদল। দিন সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ লাখের বেশিবার গানের ভিডিও দেখেছেন দর্শক। ভারতের আসাম থেকে সুবহান আলী নামে এক দর্শক গানটি শুনে লিখেছেন, ‘এই গানটা শুনে সত্যিই অনেক ভালো লাগল। গানের সুর, কথা আর অনুভূতিটা মন ছুঁয়ে গেল। দেশ আলাদা হলেও ভালো গান আর সুন্দর অনুভূতির কোনো সীমান্ত নেই। সত্যিই অসাধারণ একটি গান—বারবার শুনতে ইচ্ছে করছে।’
কোক স্টুডিও জানিয়েছে, ‘পিঞ্জরাকে পুষল ময়না’ গানের পঙ্ক্তি ও সুর ভিত্তি করে গানটি তৈরি হয়েছে। শতবর্ষ আগে চা–শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম ও ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’–এর ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটি নতুন রূপ দিয়েছে মেঘদল। মেঘদলের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন চা–শিল্পী রনজু তাঁতি ও রঞ্জিত তাঁতি।
গানটির সঙ্গে মেঘদলের পরিচয় হয় পুরোনো একটি সূত্র ধরে। ২০০৪ সালে তারেক মাসুদের অন্তর্যাত্রা সিনেমায় চা-বাগানের একটি গানের ছোট্ট অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের কাছ থেকে গানটির কথা জানতে পারেন মেঘদলের সদস্যরা।
গানটি শোনার পরই তাঁদের আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু গানটি কোথা থেকে এসেছে, কারা গেয়েছেন, এর সঙ্গে কারা যুক্ত—এসব জানার জন্য শুরু হয় খোঁজ। শুধু কোনো পুরোনো রেকর্ড শুনে থেমে থাকতে চাননি তাঁরা। গানটির সঙ্গে যুক্ত মানুষ ও শিল্পীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এভাবে ধীরে ধীরে গানটির কাছে পৌঁছান তাঁরা। সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের খুঁজে বের করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গানটি রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন।
মেঘদল শুধু জনপ্রিয় হওয়ার জন্য গান করতে চায় না। তাদের ভাবনায়, পপুলিস্টিক হওয়ার চেয়ে গানের আইডিয়া ও শিকড়ের দিকে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংস্কৃতি, মানুষের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস তাদের সংগীতের অন্যতম অনুপ্রেরণা। এই জায়গা থেকেই নিজেদের গানকে আলাদা করতে চায় তারা। শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের সংগীতের ভাষা ও অবস্থান ধরে রাখা।