• মঙ্গল. অক্টো. 27th, 2026

নির্বাচনে হেরে গেলে কী করবেন নেতানিয়াহু, কেন বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা?

Bytrendnews

অক্টো. 27, 2026


সাম্প্রতিক ইতিহাসে গাজায় জঘন্যতম গণহত্যা চালানোর পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরায়েলিরা। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রথম পাঁচ ঘণ্টাতেই ভোটার উপস্থিতি ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২৪ লাখের বেশি মানুষ।

১৯৭৩ সালের পর নির্বাচনের এই পর্যায়ে এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে একই সময়ে ভোট পড়েছিল ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠিনতম এই নির্বাচনে আবারও ভোটারদের আস্থা চেয়েছেন নেতানিয়াহু। অথচ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার দায় এখনো স্বীকার করেননি তিনি। নির্বাচনে হারলে ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি নতুন করে যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৩ সালের ৭ আক্টোবর হামলার ঠিক তিন বছর ২০ দিন পর ইসরায়েলে নির্বাচন হচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তিনি এখনো দায় স্বীকার করেননি। ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশনও গঠন করেননি। বরং তার মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে তিনি ঘটনার তথ্য আড়াল, উসকানি এবং প্রমাণ নষ্ট করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

এখন সেই ব্যর্থতার দায়ে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও তার জোট আবারও জনগণের আস্থা চাইছে। তারা বিচারব্যবস্থার সংস্কারের নামে নেওয়া বিতর্কিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই উদ্যোগ ইসরায়েলি সমাজকে বিভক্ত করেছে, দেশটির প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করেছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পেছনেও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

আজ নির্বাচনের দিন ভোটারদের এসব বিষয় মনে রাখা জরুরি বলে জানিয়েছে হারেৎজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংঘাত এবং ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞ থেকেও নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রীরা কোনো শিক্ষা নেননি। বরং তারা আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া ও উসকানিদাতা হয়ে উঠেছেন। চলতি সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পরবর্তী মেয়াদে তিনি ‘বিচারিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাবেন’।

এদিকে হাজারো ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন, আরও হাজারো সেনা শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত। সেনাবাহিনী ক্লান্ত ও ভাঙনের মুখে, রিজার্ভ সেনারাও চরমভাবে অবসন্ন। একইসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত চলছে। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোট ধরে রেখেছেন। তাদের জন্য ব্যাপকভাবে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং নিয়োগ এড়ানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করছেন।

ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা

হারেৎজের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিভক্ত একটি রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্বে। ধারাবাহিক সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

শেষপর্যন্ত তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ বাধানোর মতো একের পর এক উসকানির মাধ্যমে সেই পরিণতি ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির তাকে থামিয়েছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও নেতানিয়াহুকে ‘থামো’ বলতে রাজি করিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

“>

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।