
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা জীবনের প্রথম ১ হাজার দিন চিনির বিধিনিষেধ বা রেশনের মধ্যে কাটিয়েছেন, তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে উদ্বেগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ কম। পাশাপাশি তাঁদের বিষণ্নতার ঝুঁকিও ২৯ শতাংশ কম ছিল। জীবনের প্রথম ৬৩৫ দিন বা ৮১৭ দিন কম চিনি গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও উদ্বেগের ঝুঁকি ধারাবাহিকভাবে কম দেখা গেছে।
পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শৈশবে চিনির সংস্পর্শে আসার প্রভাবটি স্থায়ী হয়ে যায়। পরবর্তী জীবনে চিনি গ্রহণের পরিমাণ কমালে কিংবা জীবনযাত্রায় সমন্বয় করলেও উদ্বেগের ক্ষেত্রে প্রভাবটি অবিচল ও স্পষ্ট থাকে। তবে বিষণ্নতার ক্ষেত্রে এই প্রভাব পরবর্তী জীবনের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
শৈশবে চিনির সংস্পর্শ মস্তিষ্কের গঠনে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন ঘটায়। গবেষকেরা প্রায় ৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের এমআরআই ফলাফল পর্যালোচনা করেন। মস্তিষ্কের ৮০টি অঞ্চলে ধূসর পদার্থের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পান তাঁরা। এর মধ্যে ১১টি অঞ্চলে (বিশেষ করে সেরিবেলাম ও ব্রেনস্টেমের অংশ) কম চিনি গ্রহণকারী ও স্বাভাবিক চিনি গ্রহণকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। এই গঠনগত পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, শৈশবে দীর্ঘ সময় চিনি থেকে দূরে থাকা ব্যক্তিরা প্রাপ্ত বয়সে মিষ্টি খাবারের প্রতি কিছুটা কম আসক্তি দেখিয়েছেন।