• শনি. অক্টো. 17th, 2026

অ্যাকসেস আমার হাতে নাই | প্রথম আলো

Bytrendnews

অক্টো. 17, 2026


মোড়ের চায়ের দোকানে বসে একটা লিকার–চা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে পা নাড়াচ্ছে পল্টুদা। পল্টুদা আমাদের এলাকার কাউন্সিলর কাশেম ব্যাপারীর বাঁহাত বলা চলে। বাঁহাত এ কারণে যে কাশেম ব্যাপারীর যত খারাপ কাজের বাস্তবায়ন হয় এই পল্টুদার মাধ্যমেই। তবে এলাকায় গুঞ্জন আছে, কয়েক দিন‌ ধরে কিছু বিষয় নিয়ে কাশেম ব্যাপারী আর পল্টুদার দহরম–মহরম নাকি এখন আদায় কাঁচকলায় পরিণত হয়েছে।

তো যা–ই হোক, পল্টুদার পাশে গিয়ে বসলাম। দেখি সকালের নাশতার খরচটা বাঁচাতে পারি কি না।

—কী পল্টুদা, টেনশনে মনে হচ্ছে!

—জীবন রিস্কে, টেনশন না ক‌ইরা কী করমু?

—আবার ঝগড়া হয়েছে ঘরে?

—আরে ধুর! হেই সব না।

—তাহলে কী সমস্যা? আপনি আমার বড় ভাই; আপনার সমস্যা আমার সমস্যা।

—বেটা সকাল সকাল তেল মারতাছস, সর এইহান থেইক্কা।

বুঝলাম, বেচারা আসলেই কোনো দুশ্চিন্তায় আছে। মানবতা জাগিয়ে ভাবলাম, তাকে একটু সাহায্য করাই যায়।

—ভাই খুলে বলেন, সমস্যা কী হয়েছে? সমাধান আমি দেব।

—দুঃখের কথা কী কমু? তোরা তো জানস, কাশেম ব্যাপারীর লগে আমার গোঁজামিল চলতাছে। হের সব অকাজের ফাইলপত্র আমার কাছে। কয় দিন আগে ব্যাপারী প্রাইমারি স্কুলের দেয়াল বরাবর ‘এক নম্বর’ বাথরুম করছিল। সময়ে কাজে লাগতে পারে ভাইবা, ওই ছবি তুইলা রাখছিলাম।

—ওইটা সমস্যা?

—আরে না, বেটা। সমস্যা আরও গুরুতর। গত রাইতে জসিমের বিয়ায় গিয়া, উল্টাপাল্টা খায়া আমি ওই ছবি পোস্ট মাইরা দিসি ফেসবুকে, লগে ক্যাপশনও দিছি—কাশেম ব্যাপারীর উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে আবদুল্লাহপুর!

—হায় হায়! কন কী! পোস্ট ডিলিট করেন নাই?

—পোস্ট তো সকালে হুঁশ হ‌ওয়ামাত্রই ডিলিট করছি। তয় মাঝরাইতে ওই পোস্ট দেইখা ব্যাপারী নাকি স্ট্রোক করছে, অহন আইসিইউতে। এহন যদি ব্যাপারী পটল তুলে, তোগো পল্টু ভাই তো চৌদ্দ শিকের ভাত খাইব রে, মফিজ। ভাই মফিজ, আমারে তুই বাঁচা…



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।