• মঙ্গল. অক্টো. 13th, 2026

ফরিদপুর মেডিকেলে ২৩ কোটি টাকার যন্ত্র অব্যবহৃত, অনিয়মের অভিযোগ দুদকের

Bytrendnews

অক্টো. 13, 2026


ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা দিয়ে কেনা দুটি যন্ত্র অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে; এতে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।

এর মধ্যে ৯ বছর আগে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও সেটি চালু হয়নি। অপরদিকে ক্যান্সার ইউনিটের জন্য ১৪ কোটি টাকার একটি লিনিয়ার এক্সেলেটর বস্তাবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

এ ছাড়া এমএসআর (চিকিৎসা সামগ্রী) ক্রয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। সেসবের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ শেষে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত ৮টায় তা শেষ হয়। এতে সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে আটজন অংশ নেন।

দুদক জানায়, চিকিৎসা সেবা প্রদানে হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের জন্য সাড়ে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্র আনা হলেও আজও তা বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিনটি ক্রয় করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগে ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্র স্থাপন করা হলেও তা চালু করা হয়নি। এগুলো চালু না করেই ওই অর্থবছরে দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এমএসআর ক্রয়ে অনিয়ম

হাসপাতালের এমএসআর (চিকিৎসা সামগ্রী) ক্রয়ে তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে বলে বলেন দুদক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “ফেব্রিক্স নামক একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি এবং হেক্সাটন নামক ওষুধের বেশি বোতল পাওয়া গেছে। যা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।”

এ ছাড়া হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে দুদক।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর ক্রয়ের কার্যাদেশে সব সামগ্রীর মধ্যে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্ম থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাদ দিয়ে দুদক জানায়।

জমা হয়নি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া

গত এক মাসে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার কোনো অর্থ জমা হয়নি বলে দুদক তথ্য পেয়েছে।

হাসপাতালের পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি নষ্ট। তিনটি চালু থাকলেও ভাড়ার টাকা জমা হয়নি।

এ ছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দুদক জানায়।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, “আমরা আমরা প্রতিটি নথিপত্র সংগ্রহ করেছি এবং এসবের বিশ্লেষণ শেষে দায় নির্ধারণ করা হবে। এরপর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, “দুদক আমাদের কাছে যা যা চেয়েছে সব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। হাসপাতালের ওই মেশিন দুটি দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে আছে, যে বিষয়ে মন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে।

“এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এমএসআর ক্রয়ে অনিয়ম হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।”



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।