
টিভিতে চলছিল ঈদের নাটক ‘বউ বিভ্রাট’। পরিবারের সঙ্গে বসে নিজের অভিনীত নাটক দেখছেন জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। নিজের নাটক পরিবারের সবাই মিলে দেখতেই পারেন। তবে এ দেখার অন্য একটা অর্থ আছে। এখানে এক গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চাঁদনী। তিনি বড় হয়েছেন ঢাকায়। নাটকে গ্রামের মেয়ের চরিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক তাঁর ছিল না। পরদিন শুটিং, পরিচালক বলে দিয়েছেন, নিজেকেই কস্টিউমের ব্যবস্থা করতে হবে। কী করা যায়! বাসায় চাচাতো বোনের কাছে চরিত্রটির উপযোগী অনেক পোশাক আছে। কিন্তু শুটিংয়ের কথা বললে কখনোই দেবেন না। অগত্যা গভীর রাতে বড় বোনের সঙ্গে মিলে কাজিনের পোশাক চুরি করে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন! সেই নাটকই দেখছিলেন আর আড়চোখে কাজিনের দিকে তাকাচ্ছিলেন চাঁদনী। না জানি কী প্রতিক্রিয়া হয়! কিন্তু মোশাররফ করিমের সঙ্গে চাঁদনীর দৃশ্য দেখে বোন আর কিছু বললেন না। বরং ঘটনা বলতে বলতে একচোট হাসাহাসি হলো।
ডিসপ্লেতেও ভয়
রক্ষণশীল পরিবার। সেটা এতটাই যে স্কুলের বার্ষিক ডিসপ্লেতে অংশ নেওয়ার কথাও পরিবারকে বলতে সাহস পেতেন না চাঁদনী। স্কুল–কলেজে আবৃত্তি করতেন, পুরস্কারও পেয়েছেন। ব্যস, এতটুকই। ‘জানতাম পরিবার মেনে নেবে না। তাই অভিনয়ের স্বপ্ন দেখারই সাহস ছিল না,’ বলছিলেন চাঁদনী।
স্কুল–কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হলেন ইডেন কলেজে। পরিবারের রাশও একটু আলগা হলো, ক্যাম্পাসের সিনিয়র আপুদের সান্নিধ্য একটু একটু করে বদলে দিল চাঁদনীর জীবনের গতিপথ। ‘ক্যাম্পাসে তো অনুষ্ঠান লেগেই থাকত। সবার সঙ্গে শাড়ি পরে প্রচুর ঘোরাঘুরি হতো। টিএসসিতে তখন প্রচুর ফটোগ্রাফার। সবাই ছবি তুলত, আমিও ছবি তুলতাম। এক আপু আমার ছবিগুলো দেখে বলেছিলেন, “তোকে তো মডেলের মতো লাগছে।” উনিই পরে এক পরিচালককে দেন। এভাবে অভিনয়ে যুক্ত হওয়া,’ বলছিলেন চাঁদনী। শুরুতে বিষয়টাকে স্রেফ মজা হিসেবে নিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন সত্যি সত্যি নাটকে সুযোগ পেয়ে গেলেন তিনি।