
১৯৫৬ সালের একদিন আশা রেকর্ড করতে এলেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক শচীন দেববর্মনের স্টুডিওতে। সেখানেই প্রথম দেখা শচীনের ছেলে রাহুলের সঙ্গে। তবে সেটা শুধু প্রথম দেখাই।
এরপর তাঁদের রসায়ন জমতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। গণপতর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পুরোপুরি গানে মনোযোগ দেন আশা।
ষাটের দশক থেকে তিনি হিট গান গাইতে শুরু করেন। রাহুল দেববর্মনের মিউজিকে গান গাইতে গিয়েই কাছাকাছি আসেন আশা। আর রাহুল, মানে পরবর্তী সময়ে যিনি আরডি বর্মন নামে বিখ্যাত হতে চলেছেন, তিনিও তত দিনে আশার কণ্ঠের ভক্ত হয়ে গেছেন। বাস্তব জীবনে জুটি হওয়ার আগেই তাঁদের গান হিট হতে শুরু করে।
‘তিসরি মঞ্জিল’ সিনেমায় এই জুটির গান ইতিহাস তৈরি করল। চারদিকে এই জুটিকে নিয়ে হইচই। এদিকে আরডি বর্মনও তখন রিতা প্যাটেলের সঙ্গে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নিয়ে একলা চলছেন। নিজেদের এই একাকিত্বই তাঁদের আরও কাছে নিয়ে এল। ষাটের দশকের শেষ দিকে এসে মন দেওয়া–নেওয়া শুরু হয় আশা–আরডির মধ্যে।
প্রথম বিচ্ছেদের ২০ বছর পর আশা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এই সংগীত পরিচালক আরডি বর্মনকে (রাহুল দেববর্মন)। তবে সেই বিয়েও শুরুতে মানতে চাননি রাহুলের মা মীরা দেববর্মন।
একে তো আশা তিন সন্তানের মা, তার ওপর আবার রাহুলের চেয়ে বয়সে ছয় বছরের বড়। তবে মায়ের নারাজিতে কাজ হলো না, টলানো গেল না ছেলের প্রেম।
ফলে ১৯৮০ সালে আর ডি বর্মনের সঙ্গে ফের গাটছড়া বাঁধলেন আশা। আশা–আরডি ছিলেন নিঃসন্তান। বিয়ের প্রায় ১০ বছর পর থেকে জীবনযাত্রার পার্থক্যের কারণে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন।
আলাদা থাকলেও আশা কিংবা আরডি কেউই কখনো অন্যকে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করেননি। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন শেষ দিন পর্যন্ত।
তাই হয়তো জীবনের শেষ রেকর্ড করা গানটাও প্রয়াত স্বামী আরডি বর্মনকে উৎসর্গ করতে পেরেছেন আশা ভোসলে।
তথ্যসূত্র: এনডি টিভি, নিউজ এশিয়া, টিভি নাইন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ‘আশা ভোসলে: আ লাইফ ইন মিউজিক’