[ad_1]
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের দিয়ে প্রেমের অভিনয় করিয়ে পুরুষদের বাসা বা হোটেলে ডেকে নেওয়ার পর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করা হতো, এমন একটি চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ডিবি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবির তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির প্রধান ৩৮ বছর বয়সি জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান তার ‘ভাগনে ও ভাগনের স্ত্রীকে’ নিয়ে চক্রটি চালাতেন।
রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন ডিএমপির ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার অন্য চার জন হলেন প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) ও সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)।
ডিবি বলছে, জিৎ ভক্তের ‘ভাগনে’ প্রীতম, আর সাবরিন হলেন ‘ভাগনের স্ত্রী’।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার প্রধান বলেন, চার ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটিকে শনাক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। চক্রের সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। পাশাপাশি ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে তুরাগ থানা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পরিচয় ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতেন। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী ব্যক্তিরা।
অভিনয়ের একপর্যায়ে কৌশলে তাদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলে ডেকে নেওয়া হতো। ভুক্তভোগীরা সেখানে গেলে চক্রের পুরুষ সদস্যরা তাদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন। এ সময় নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থার ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানোর হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো।
ডিবি প্রধান শফিকুল বলেন, একবার টাকা নেওয়ার পরও চক্রটি ভুক্তভোগীদের ছাড়ত না। ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে আরও টাকা আদায় করা হতো।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
[ad_2]
Source link