[ad_1]
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ যারা সমাজে হিজড়া নামে পরিচিত তারা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়। পরিবারের কাছে নিগৃহীত হয়ে অনেককে ছেড়ে যেতে হয় নিজের বাড়ি।
১৬ বছর বয়সী নুজাইফা। তার বাড়ি রাজশাহী সদরে। সে জানায়, হিজড়া পরিচয়ের কারণে শৈশব থেকেই তাকে নানা ধরনের লাঞ্ছনা সহ্য করতে হচ্ছে।
পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বৈষম্যের মুখে পড়তে হয় নুজাইফাকে। মাদ্রাসায় পড়ার সময় সহপাঠীদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে নানা কটূক্তি।
নুজাইফা হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলে, “মাদ্রাসাতে অনেকে বলে, 'এই তুমি মেয়েদের মত কেন, হুজুর মানুষ মেয়েদের মত কেন?’ আমার সমবয়সী ছাত্র ভাইয়েরাও হিজড়া বলে ক্ষ্যাপায়।”
এ ধরনের বৈষম্য ও উপহাস যে একজন মানুষের মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন আবু হাসনা পলি নামের এক হিজড়া ব্যক্তি।
পলি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ, বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য নিজের মধ্যে নিতে না পেরে সবসময় মনে করেছি, সমাজে, পরিবারে, রাষ্ট্রের কাছে তো আমি একদমই বোঝা। আমার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নাই। আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।”
তাই হিজড়া শিশুদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি বলে মনে করেন রাজশাহীতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'দিনের আলো হিজড়া সংঘের' সভাপতি মিস মোহনা।
তার মতে, অন্য শিশুদের সঙ্গে হিজড়া শিশুদের স্বাভাবিকভাবে মেশা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
মোহনা বলেন, “বাস্তবতা যদি না মেনে নিই, তাহলে তো হবে না। আপনার সন্তানও আজকে আমাদের মত হতে পারে। তাই বলে আপনি এভাবে ছুড়ে ফেলে দেবেন? এই যে দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজে যদি পরিবর্তন না হয়, আমরা সমাজের মূল স্রোতে আসতে পারব না।”
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান হ্যালোকে বলেন, “সমাজের বিরূপ মনোভাবের কারণে হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের বৃহত্তর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারেন। এই বিচ্ছিন্নতাবোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।”
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।
[ad_2]
Source link