[ad_1]
ভিডিও গেম কেনা ও ব্যবহারের পুরো ধারণাই বদলে দিতে পারে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবিত নতুন এক আইন।
প্রস্তাবিত এই ‘পাওয়ার টু দ্য প্লেয়ার্স অ্যাক্ট’ নামের আইনের মূল লক্ষ্য ডেভেলপাররা যখন ইচ্ছে তখনই সার্ভার বন্ধ করে গেইমের অ্যাক্সেস কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে খেলোয়াড়েরা যাতে সত্যিকার অর্থেই তাদের কেনা গেইমের ‘মালিকানা’ পান তা নিশ্চিত করা।
ভিডিও গেইম ডেভেলপারদের নানা কঠোর বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গেইমারদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের মধ্যেই এ আইন প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
এ বছরের শুরুতে ডেভেলপার কোম্পানি রকস্টার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের আসন্ন আলোচিত গেইম ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬’ কেবল ডিজিটাল সংস্করণে পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া, সনিও ঘোষণা করেছে, তারা অচিরেই পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণভাবে ডিস্ক বা ফিজিক্যাল গেইম বিক্রি বন্ধ করে দেবে।
এসব গেইম যখন কেবল ডিজিটালি বিক্রি করা হয় তখন এগুলো কীভাবে খেলা হবে তার ওপর ডেভেলপার ও প্ল্যাটফর্ম মালিকদের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যায়।
এতে করে গেইমাররা চাইলেও আর সেকেন্ড-হ্যান্ড বা পুরনো গেইম কেনাবেচা করতে পারেন না এবং ডেভেলপাররা চাইলেই যেকোনো সময় গেইমের সার্ভার বা সমর্থন বন্ধ করে দিতে পারেন।
এক্ষেত্রে, ‘এনবিএ টুকে২৫’ গেইমটির উদাহরণ টেনেছেন নতুন আইনটির প্রস্তাবক মার্কিন কংগ্রেসম্যান রিচি টরেস।
প্রায় ১০০ ডলারে বিক্রিত গেইমটির অনলাইন সার্ভার বাজারে আসার কেবল দুই বছরের মাথাতেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেসম্যানের কার্যালয় বিবৃতিতে বলেছে, “কোনো গ্রাহকেরই উচিত নয় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়া, যেখানে তারা যে গেইমের দাম পরিশোধ করেছেন তা কোম্পানির খেয়ালখুশি অনুযায়ী হুট করে খেলার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হবে।
“আপনি যখন একটি গেইমের দাম পরিশোধ করবেন তখন সেটার মালিকানাও আপনার থাকা উচিত। ভোক্তাদের তাদের কেনা গেইমের মালিকানা, অধিকার ও হস্তান্তরের অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে।
“কোম্পানিগুলো যে গেইম হুট করে সার্ভার বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেড়ে নিতে পারে তা কোনো কেনাকাটা নয়, বরং বিক্রির ছদ্মবেশে এক ধরনের ভাড়া।”
কংগ্রেসম্যান রিচি টরেস বলেছেন, অনেক পরিবার ‘অর্থ সঞ্চয় করে এসব গেইম কেনেন’ এবং পরবর্তীতে দেখা যায় এসব গেইম ‘যে কোনো মুহূর্তে গায়েব হয়ে যেতে পারে’।
এ নতুন আইন নিশ্চিত করবে ‘ভোক্তারা যা কিনছেন সেটির প্রকৃত মালিক যেন তারাই হন এবং কোম্পানি সমর্থন তুলে নেওয়ার বহুদিন পরও যেন গেইমটি খেলা যায়’।
খসড়া বিল অনুসারে, কোনো ভিডিও গেইম কেনার মানে দাঁড়াবে ক্রেতা কেবল সেটা খেলার সাময়িক ‘লাইসেন্স’ পাচ্ছেন না, বরং গেইমটির প্রকৃত ‘মালিকানা’ পাচ্ছেন।
প্রস্তাবিত আইনে বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে, অনলাইনভিত্তিক ফিচার রয়েছে এমন গেইমগুলোর সার্ভার চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার আগে ডেভেলপারদের অবশ্যই বিকল্প ‘অফলাইন মোড’ চালু করতে হবে।
‘স্টপ কিলিং গেইমস’-এর মতো বিভিন্ন চাপ তৈরিকারী গোষ্ঠীর আন্দোলনের জবাবে এই সংকট সমাধানের আগে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ডেভেলপারদের অনির্দিষ্টকালের জন্য অনলাইন সার্ভার চালু রাখার দাবি জানানো হয়।
গেইম ডেভেলপারদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন সার্ভার সচল রাখা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অসম্ভব হয়ে ওঠে। নতুন বিলটিতে ডেভেলপারদের সেই সমালোচনার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
এতে সার্ভার চালু রাখার বাধ্যবাধকতা না দিয়ে কেবল গেইমটি যেন অফলাইনে খেলার উপযোগী থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
কংগ্রেসম্যান টরেস বলেছেন, আইনটি বাস্তবায়িত হলে তা গেইম খাতের ‘ঐতিহাসিক ও পুরনো নীতিতে ফিরে যাওয়ার’ সামিল হবে।
এর মাধ্যমে অনলাইন বা কেবল ডিজিটাল সংস্করণের গেইম আসার আগে গেইমাররা গেইমের ওপর যে ধরনের প্রকৃত মালিকানা ভোগ করতেন সেটাই আবার ফিরবে।
[ad_2]
Source link