[ad_1]
৪.
এই লেখার শুরুতেই পাঠকের জন্য যে প্রশ্ন রেখেছিলাম, সেই প্রশ্ন সঠিক ছিল বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে এই পুনরাবৃত্ত বিরোধের পেছনে সম্ভবত আরও গভীর একটি পরিচয়সংকট কাজ করছে। আমরা কি বাঙালি, নাকি মুসলমান? বাংলাদেশের নাগরিক হতে হলে কি শাশ্বত বাঙালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করতে হবে? এমন সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিচার কি ন্যায়সংগত?
একজন মানুষের একাধিক পরিচয় পরস্পরকে বাতিল করে না। বাংলাদেশের একজন নাগরিক একই সঙ্গে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান হতে পারেন বাঙালি বা অন্য জাতিসত্তার সদস্য হতে পারেন দক্ষিণ এশীয় ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করতে পারেন আবার আধুনিক বিশ্বের নাগরিকও হতে পারেন।
নাগরিকের জাতীয় পরিচয় শূন্য স্থানে বসানোর এমন কোনো একমাত্রিক বস্তু নয় যে সেখানে আর অন্য কোনো পরিচয় রাখার জায়গা হয় না। বাংলাদেশের নাগরিক একই সঙ্গে তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ইত্যাদি পরিচয় ধারণ করতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি আলাওল, লালন, হাসন রাজা, নজরুল, শাহ আবদুল করিম, আবদুল হাকিম, বেগম রোকেয়া, মাইকেল মধুসূদন, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, সুফিয়া কামাল প্রমুখও আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের পূর্বপুরুষ—তাঁদের কাউকেই অস্বীকার করার সুযোগ আমাদের নেই। আমরা অসংখ্য লোকজ, বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, বৈষ্ণব, সুফি এবং আধুনিক পাশ্চাত্য চিন্তার উত্তরাধিকার। অসংখ্য সাংস্কৃতিক-সামাজিক স্রোতের মিলনমেলা আমাদের এই বাংলাদেশ।
রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে তাই বাংলাদেশকে আরও বেশি ‘বাংলাদেশি’ করা যায় না। একইভাবে রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে অন্য ধারার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ছোট করেও বাংলাদেশকে বোঝা যায় না। ইতিহাস বিয়োগের বা নতুন কিছু যোগের অঙ্ক নয়।
[ad_2]
Source link