[ad_1]
রোমার বিপক্ষে ভিনিসিউস জুনিয়রের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পেছনে মাঠের বাইরের ঘটনার প্রভাব দেখছেন রেয়াল মাদ্রিদ কোচ জুজে মরিনিয়ো। তিনি মনে করছেন, ম্যাচের মাত্র ঘণ্টা দুয়েক আগে লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে প্রভাবিত করেছিল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার রোমার মাঠে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৪-৩ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ।
শুরুর একাদশে থাকা ভিনিসিউসকে ৫৮তম মিনিটে তুলে নেন মরিনিয়ো। সে সময় ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল ইউরোপের সফল দলটি। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে পায় দারুণ জয়।
ম্যাচের ঘণ্টা দুয়েক আগে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি ঘোষণা করে লা লিগায় পরের চার ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন ভিনিসিউস। এতে সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি।
গত শনিবার ভিয়ারেয়াল ডিফেন্ডার ন্যাথান সালিবার চুল টেনে ধরায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, বুধবার আসে বড় শাস্তির ঘোষণা।
রোমার বিপক্ষে জয়ের পর ভিনিসিউসের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ওই শাস্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেন মরিনিয়ো।
“আপনি একজন সাংবাদিক, কিন্তু আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি? আপনি কি মনে করেন, এটা স্বাভাবিক যে, কোনো স্প্যানিশ দলের একজন খেলোয়াড়, যে স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে, এর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে জানতে পারল যে তাকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে? আপনার আমাকে উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। এটা স্বাভাবিক নয়। এটা কি এখন বা আগামীকাল সকালে করা যেত না? আমরা বাসের মধ্যে, যখন প্রায় স্টেডিয়ামে ঢুকছি তখন এই খবর জানতে পেরেছি।
“এটা এখন পর্তুগিজ ভাষার সেই প্রবাদের মতো হয়ে যাচ্ছে, ‘একটি বিড়াল লুকিয়ে আছে, কিন্তু নিজের লেজটি দেখাচ্ছে।’ এখন বিড়ালটি আর লুকিয়েও নেই, বরং নির্লজ্জের মতো প্রকাশ্যেই সব করছে। একটি স্প্যানিশ দলের ম্যাচের ঠিক দুই ঘণ্টা আগে একজন খেলোয়াড় জানতে পারে সে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ এবং এভাবেই আপনি একটি খেলোয়াড়কে শেষ করে দিয়েছেন। এটা স্বাভাবিক নয়, কিন্তু এখন এটা আমার কাছে স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে কারণ বিড়ালটি এখন আর লুকিয়ে নেই।”
মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় বেশ হতাশ ও অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছিল ভিনিসিউসকে। কোচকে যেন জিজ্ঞেস করছিলেন, তাকেই উঠে যেতে হবে কিনা। সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর ধীর পায়ে একরাশ হতাশা নিয়ে ডাগআউটে একটা চেয়ারে বসে যান ভিনিসিউস। তিনি বাড়াবাড়ি না করলে তাতে আপত্তির কিছু দেখেন না মরিনিয়ো।
“তার প্রশ্ন করাটা স্বাভাবিক এবং তার অসন্তুষ্ট হওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে সে যদি পরবর্তীতে অনেকের মতো বোতল ছুড়ে মারে বা লাথি মারে, তবে সেটা আমার পছন্দ নয়। এগুলো আমি স্পষ্টতই পছন্দ করি না। কিন্তু একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। ম্যাচ শেষে সে দলের জয়ে খুব খুশি ছিল। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
কেবল ভিনিসিউসের শাস্তি ঘোষণার টাইমিং নয় রেয়ালের খেলার সূচিতে ঝামেলা দেখছেন মরিনিয়ো।
“এটা অত্যন্ত অসম্মানজনক। (আগামী ৪ নভেম্বর) বুধবার রাতে এথেন্সে খেলা। মাদ্রিদে পৌঁছাতে সম্ভবত ভোর ৫টা বেজে যাবে। আর তারপর শনিবার (৭ নভেম্বর) ভালেন্সিয়াতে খেলা- আন্তর্জাতিক বিরতির আগের সপ্তাহে এটা করার কোনো মানে হয় না, একদমই কোনো মানে হয় না।
“তারা আপনাকে শনিবার ভালেন্সিয়াতে খেলাচ্ছে, যা খুব কঠিন একটি ম্যাচ। এটা আমার কাছে স্বাভাবিক কোনো ঘটনা বলে মনে হয় না। আমি এই সাধারণ অজুহাতগুলো বিশ্বাস করি না, কারণ আমি ২৫ বছর ধরে ফুটবলের সাথে আছি। টিভির অজুহাত দেখানো হয় যে, টিভি ম্যাচের জন্য শনিবার বেছে নিয়েছে। আমি এটা আর বিশ্বাস করি না। এগুলো বিশ্বাস করার বয়স আমার পার হয়ে গেছে।… মাদ্রিদ সমর্থকরা বোকা নয়। আর মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু আমি করব।”
[ad_2]
Source link