[ad_1]
দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই বিএনপির লক্ষ্য বলে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার রাতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘‘একটি ভালো কাজ করার মুখ্য বিষয় হচ্ছে ইচ্ছ, ইচ্ছা এবং ইচ্ছা। আমি বিশ্বাস করি আমার এই প্রিয় সংগঠনের প্রত্যেকটি সদস্যের সেই প্রবল ইচ্ছাটি রয়েছে। যে ইচ্ছার মাধ্যমে সে একটি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে সক্ষম।
‘‘আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক আগামী দিনে যতদিন পর্যন্ত আমরা সুস্থ থাকব, সবল থাকব ততদিন পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য হোক একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সেই প্রত্যাশা রেখে এবং আবারো আমার এই প্রিয় সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের শুভ কামনা করছি।”
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান হয়। এতে ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমানও বক্তব্য দেন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ‘একটি চেষ্টা, একটি উদ্যোগ’- প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যায় তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা চেয়েছি মানুষের জন্য কিছু করার এবং আমরা সেটি করেছি আমরা সেটি পেরেছি অর্থাৎ আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি আমরা যদি একসাথে থাকি তাহলে এই যে একটি উদ্যোগ একটু চেষ্টা এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা। এটাকে বাস্তবায়ন করা একেবারেই সম্ভব।
‘‘আমি দৃঢ়ভাবে এটা বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে থাকি, একসাথে কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব, মানুষের জন্য আমরা কাজ করতে পারব।এই মুহূর্তে আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি বাংলাদেশে আমাদের সকলের দেশের জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করা উচিত। এজন্য কাজ করা উচিত।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘একটি কথা আমি বলে আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেটি হচ্ছে ইচ্ছা অর্থাৎ আমি একটি কাজ করতে চাই…ইচ্ছাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা দেখেছি পৃথিবীতে এই দেশে বা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছে কিন্তু তারা তাদের সেই বিত্ত বা তাদের যে রিসোর্স থাকে সেটিকে শুধুমাত্র তারা নিজেদের স্বার্থেই বা নিজেদের কাজেই ব্যবহার করে।
“কিন্তু তাদের বিত্ত বা সম্পদের একটি সামান্য অংশও যদি তারা এই সমাজের জন্য এই মানুষের জন্য ব্যবহার করে, সমাজের জীবজন্তু প্রকৃতি জন্য যদি ব্যবহার করে, তাহলেও অনেকের কাছে অনেক শান্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।”
‘মানুষের পাশে আছে, থাকবে’
ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আর্শিবাদে সিক্ত ও জনাব তারেক রহমানের উদ্যোগে অনুপ্রেরণায় স্থাপিত বাংলাদেশের মানবিকতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
“গত ২৭ বছর মানবসেবার ছোট চারা গাছ থেকে আজ এই প্রতিষ্ঠান মহিরুহ হওয়ার পথে। মানুষের জন্য মানুষ, একটি চেষ্টা, একটি উদ্যোগ এই সংকল্পে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে সব সময়।”
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে বিশ্বে মানবিকতার উজ্জল উদাহরণ হয়ে থাকবে বিভিন্ন মানবসেবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বলে তুলে ধরেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৯ সালে ১৮ অক্টোবর। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘একটি উদ্যোগ একটি চেষ্টা… এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’।
অনুষ্ঠানে ‘আইডিয়া ফেস্ট’ এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়- তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ বৈষম্যহী ও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ হল আইডিয়া ফেস্ট।
এতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী এবং সার্টিফিকেট দেন জুবাইদা রহমান।
চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ-১২ (দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনীম, মোহামেনুল ইসলাম ও মো. রিয়াদ মিয়া)। রানার্স আপ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-২ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-১।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-২ এর দলনেতা নাজমুল ইসলাম নাফি, মুনতাসির আবেদীন রিফাত ও শাহরিয়ার রাফাত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-১ এ রয়েছেন দলনেতা আবদুল আশরাফিক চৌধুরী, জারির মাহমুদ ও এসএম ইয়াসিন সৌরভ।
এবার সেমিফাইনাল পর্বে ছিল ১৮টি দল। বিচারকের রায়ে ৭টি ফাইনালে অংশ নেয়। এগুলোর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ ১২।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও আইডিয়া ফেস্ট এর আহ্বায়ক সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী ও সমন্বয়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।
[ad_2]
Source link