পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬

স্টার অনলাইন ডেস্ক

লড়াইটা হচ্ছে কলকাতার কাছেই। রাজ্য-রাজধানীর দক্ষিণে। জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা হলেও লড়াইয়ের এলাকাটি বৃহত্তর কলকাতার অংশ। বিধানসভা কেন্দ্রের নাম সোনারপুর দক্ষিণ। আসন্ন নির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের মূল পরিচয়, তারা স্বনামধন্য অভিনেত্রী।

তাদের একজন তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক ও অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র ও অন্যজন বিজেপির প্রার্থী ও সাবেক রাজ্যসভার সদস্য অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।

আলোচনা মূলত এই দুজনকেই ঘিরেই।

দুই নেত্রীর অনলাইন প্রচারণা। ছবি: কোলাজ/এআই

">

বৈশাখের এমন গরমে অভিনেত্রীদের ভোটারমুখী প্রচারণা চলছে। প্রখর রোদে এ বাড়ি, ও বাড়ি ঘুরতে হচ্ছে তাদেরকে। পর্দার মানুষদের একটু স্বস্তি দিতে ভোটারদেরকেও সহানুভূতির বাণী নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ভিডিও প্রতিবেদনগুলোয়।

এক দলের সমর্থকরা বলছেন—তাদের অভিনেত্রীর খ্যাতি জাতীয় পর্যায়ে। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ। প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ ও ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে কাজ করেছেন তাদের অভিনেত্রী। এ ক্ষেত্রে তার সাফল্য আলাদা পরিচিত এনেছে।

অন্য দলের সমর্থকরা এমন বিতর্কে না গিয়ে বলছে—সোনারপুর দক্ষিণের উন্নয়নের ধারা চলমান রাখতে তাদের প্রার্থীকেই আবার ফিরিয়ে আনা হবে।

এমন বাস্তবতায় পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমগুলো সোনারপুর দক্ষিণের ভোটযুদ্ধকে ‘অভিনেত্রী বনাম অভিনেত্রীর লড়াই’ বলেই আখ্যা দিচ্ছে।

বিজেপির ‘রূপারপুর’

রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বা রূপা গাঙ্গুলি; অথবা ‘পদ্মানদীর মাঝি’র কপিলা। গৌতম ঘোষের পরিচালনায় ‘পদ্মানদীর মাঝি’-তে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও রূপার অভিনয় নানা প্রেক্ষাপটে আজো প্রাসঙ্গিক। সেই সূত্রে বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে রূপা গাঙ্গুলি পরিচিত নাম।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণা। ছবি: সংগৃহীত

">

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণা। ছবি: সংগৃহীত

এরপর ছোটপর্দার ‘মহাভারতে’ রূপা অভিনয় করেন দ্রৌপদীর ভূমিকায়। পৌঁছে যান মানুষের ঘরে ঘরে।

১৯৬৬ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া রূপা গঙ্গোপাধ্যায় সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিজেপির প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এলাকার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

গত ২৬ মার্চ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপির মনোনয়ন নিয়ে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। সেই সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ভারতীয় পার্লামেন্টে তুলে ধরেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রূপা সফল হবেন কিনা তা দেখা যাবে ৪ মে প্রকাশ হতে যাওয়া ফলাফলে।

বৈশাখের এমন উত্তাপে ক্লান্ত রূপাকে বলতে শোনা যায়—‘পদ্মানদীর মাঝি করে যদি গায়ের রং পোড়াতে পারি, তাহলে এটুকু করে গায়ের রং পোড়াতে পারবো না কেন?’

বৈশাখের গরমেও ছাদ খোলা গাড়িতে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণা। ছবি: সংগৃহীত

">

বৈশাখের গরমেও ছাদ খোলা গাড়িতে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণা। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি আনন্দের এক ভিডিও প্রতিবেদনে এমনটি শোনা যায়।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল নিউজ বাংলা এইটটিন এর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—‘৫ বাড়ি, ২ গাড়ি, সোনা-হীরা, বিনিয়োগে বাদ নেই কিছুই! বিজেপি প্রার্থী রূপার সম্পত্তির অংক গুণে শেষ করতে পারবেন না।’
প্রতিবেদনটিতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার মামলা থাকার কথাও বলা হয়। তার বিরুদ্ধে দাঙ্গা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ-সহ মোট ৫টি মামলা আছে।

গত ১৫ এপ্রিল আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—’১২ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মুম্বাইয়ে বাড়ি! কত কোটির মালিক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়? বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি-গয়নাই বা কত।’

পদ্মা নদীর মাঝি সিনেমায় রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

">

পদ্মা নদীর মাঝি সিনেমায় রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। রাজ্যসভার এই সাবেক সদস্যকে বিজেপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও প্রচার অভিযানে দেখা গিয়েছে।

তবে রূপা এবারই প্রথম ভোটে লড়ছেন উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল রূপা বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নের সঙ্গে যে হলফনামা দিয়েছেন তা থেকে জানা যায়, স্থাবর ও অস্থাবর মিলে তার মোট সম্পত্তি প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ রূপি।

মিউচুয়াল ফান্ডসহ মোট ২৩ খাতে রূপা মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে রেখেছেন।

বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

">

বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ‘রূপা পেশায় শিল্পী। পারিশ্রমিক থেকেই আয় হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে স্নাতক হন।

রূপার দল বিজেপি নিরামিষের পক্ষে কথা বলায় লাভলির দল তথা তৃণমূলের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার করছেন, ‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে রাজ্যে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে।’

এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিজেপি-প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলে বসেন—‘চিংড়িমাছের মালাইকারি না দিলে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলব’। তার এমন কথা মূলত ভোটারদের বোঝানো যে বিজেপির প্রার্থী হয়েও তিনি আমিষ খান।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণা। ছবি: ফেসবুক

">

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণা। ছবি: ফেসবুক

বিজেপি সমর্থকদের অনেকের ভাষ্য: রূপার ছোটবেলা এই এলাকায় কেটেছে। তার মনোনয়নই তাকে ‘বিজয়ী’ করেছে। এবার ভোটের মাধ্যমে তার বিজয় হবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

তৃণমূলের ভরসা

লাভলি মৈত্র নামে সমাধিক পরিচিত অরুন্ধতী মৈত্র ছিলেন স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘জল নূপুর’-এ প্রধান অভিনেত্রী। এরপর একই টেলিভিশন চ্যানেলে ‘মোহর’ ও ‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন তিনি।

অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। ছবি: সংগৃহীত

">

অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে সোনারপুর দক্ষিণ থেকে বিজয়ী হন। এবারও তিনিই এই আসনে তৃণমূলের প্রধান মুখ।
ভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হলেও লাভলি গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সোনারপুর দক্ষিণের বাসিন্দা হন।

গত ১২ এপ্রিল আনন্দবাজার পত্রিকা এক শিরোনামে জানায়, ‘১০০ ভরি সোনার মালিক লাভলি, ৫ বছরে ৫ গুণ হয়েছে সম্পত্তি! নিজের নামে বাড়ি নেই তৃণমূল বিধায়কের।’

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেলফি তুলছেন লাভলি মৈত্র। ছবি: সংগৃহীত

">

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেলফি তুলছেন লাভলি মৈত্র। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—অনেকের মতোই লাভলিও অভিনয় থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। ২০২১ সালে প্রথমবার ভোটে লড়াই করে জয় পান। এবারও তার ওপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল।

তার মনোনয়নের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা অনুসারে—গত ৫ বছরে শুধু লাভলি নয়, তার স্বামী সৌম্য রায়ের সম্পত্তির আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।

লাভলি মৈত্র ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

">

লাভলি মৈত্র ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত