[ad_1]
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক সাবেক সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ‘প্রায় প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রধান কৌঁসুলি অনুমোদন দিলেই এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
বুধবার পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আটক ব্যক্তিদের মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যেসব আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বিমানমন্ত্রী ফারুক খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
তামীম বলেন, “তাদের প্রত্যেকের তদন্ত প্রতিবেদনই প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। আমরা ফরমাল চার্জ প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছি। চিফ প্রসিকিউটর স্যার অনুমোদন দিলেই এই ফরমাল চার্জটা আমরা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করব। খুব অল্প সময়ে আপনারা এই ফরমাল চার্জটা দেখতে পাবেন।”
দুই বছরে সাত মামলার রায়
২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।
তামীম বলেন, শুরুতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি ছিল। প্রথমে টিনশেড ভবনে কার্যক্রম শুরু হলেও পরে ভবন সংস্কার করে বিচারকাজের পরিবেশ তৈরি করা হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল দুটিতে এ পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় হয়েছে। এসব রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তামীম বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে আসামিপক্ষ দ্রুত বিচার পরিচালনার অভিযোগ তুললেও ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বিচার বিলম্বিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করছে।
তার হিসাবে, একেকটি মামলার বিচার শেষ হতে গড়ে সাত থেকে আট মাস সময় লাগছে। তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো মামলায় ছয় থেকে সাত মাস, কোনো মামলায় এক বছর, আবার কোনো মামলায় দেড় বছরও লাগছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে সাক্ষ্য শেষের লক্ষ্য
জিয়াউল আহসান, জুনাইদ আহমেদ পলক, সজীব ওয়াজেদ জয়, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তামীম।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি প্রসিকিউশন ডিসেম্বরের মধ্যে এই সকল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে পারবে।”
এরপর আসামিপক্ষের সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্কের জন্য ট্রাইব্যুনাল সময় নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।
২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কামরুল ইসলাম বর্তমানে একই ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হিসেবে বিচারের মুখোমুখি। সে প্রসঙ্গ তুলে তামীম বলেন, “কেউই বিচারের ঊর্ধ্বে নন। সবারই মনে রাখা উচিত, কারও ওপর যেন অবিচার না হয়।”
ট্রাইব্যুনালে মামলার খতিয়ান
তামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১২টি মামলায় ১২০ জনের বিচার চলছে। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন গ্রেপ্তার এবং ৮৮ জন পলাতক।
এ ছাড়া তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৩১টি বিবিধ মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ৭৩ জন গ্রেপ্তার এবং ৫৯ জন পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৪টি মামলায় ২০৮ জনের বিচার চলছে। তাদের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত রয়েছেন।
এ ছাড়া বিচার শুরুর আগের পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬টি বিবিধ মামলায় ২৭ জন আসামি রয়েছেন বলে জানান তামীম।
আইন সংশোধন নিয়ে প্রসিকিউশনের ব্যাখ্যা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচার পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তামীম বলেন, ১৯৭৩ সালের আইনের ৩(১) ধারায় আইনটি প্রণয়নের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারের বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আইন সংশোধন করে বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচারের সুযোগ রাখা হয়। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা ও বিধান যুক্ত করে।
তামীমের দাবি, এসব সংশোধনের ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং আসামিপক্ষও এর সুবিধা পাচ্ছে।
প্রায় ৭০০ অভিযোগ পেয়েছে প্রসিকিউশন
প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা মিলিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে প্রায় ৭০০ অভিযোগ পেয়েছে বলে জানান তামীম। এর মধ্যে কিছু অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় পড়ে না—এমন অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের উদ্যোগের বিষয়ে তামীম বলেন, এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সারা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন।
বাংলাদেশে এর আগে কোনো রাজনৈতিক দলের যে এভাবে বিচার হয়নি, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দলটির কার্যক্রম থাকা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য স্থানের তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ কারণে তদন্তে সময় লাগবে। তবে তদন্ত শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে করা মামলার বিচারও চলতে পারে বলে দাবি করেন তামীম।
তার ভাষ্য, প্রচলিত ফৌজদারি অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ পৃথক বিষয়। আইন অনুযায়ী, উভয় বিচার পাশাপাশি চলতে বাধা নেই।
[ad_2]
Source link