[ad_1]
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের নতুন হামলায় এক প্রবাসী পাকিস্তানি নিহত হয়েছে।
রোববারের এ হামলায় ১১ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
সৌদি গেজেট লিখেছে, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিমানবন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ৩০৮ জন।
নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুজন, সৌদি আরবের চারজন এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বরাতে বিবিসি লিখেছে, রোববার একটি ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে। এতে বিমানবন্দরের একটি যাত্রী হলে আগুন ধরে যায়।
এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতি। একইসঙ্গে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের সতর্ক করেছে তারা।
হুতিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরটিকে নিশানা করেছে।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, পূর্ব সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি সৌদি আরবের আরও গভীরে হামলা জোরদার করার অঙ্গীকার করেন। পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দরই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বলে সতর্ক করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি।
হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরকারি বাহিনীর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাবে তারা সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রোববার বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। একই সময়ে ৪ নম্বর যাত্রী হলে আঘাত হানা একটি ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের’ কারণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের ওপর হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সিদ্ধান্ত নেবে’ এবং ‘খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেবে’। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ‘বিচেনায় রয়েছে’।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত শনিবারের হামলাটি ছিল উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে একক হামলায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা। একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বর্ণনা করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
হুতি নিয়ন্ত্রণাধীন আল-মাসিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘সৌদি শত্রুরা’ বিমান হামলা চালিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির খবরে এও বলা হয়, শহরটির একটি আবাসিক বাড়িতেও হামলা হয়েছে। এতে এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে।
তবে সৌদি আরব হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল-আলিমি বাওয়াজির আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ‘সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবারও রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন। হুতিরা হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
এর আগের দুই দিনে সৌদি আরবের আভা ও রিয়াদ বিমানবন্দরে আরও দুটি প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল।
২০২২ সালে মধ্যস্থতার মাধ্যমে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই নতুন করে সহিংসতা বেড়েছে।
[ad_2]
Source link