[ad_1]
ফ্লসিং বা সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা ময়লা পরিষ্কার করা, ছোট কাজ মনে হলেও শরীরে এর প্রভাব অবাক করার মতো।
সাধারণভাবে মনে করা হয়, দিনে দুবার ভালো টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করাই বুঝি দাঁতের সুরক্ষায় যথেষ্ট। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, টুথব্রাশের ব্রিসল দাঁতের মাত্র ৬০ শতাংশ পরিষ্কার করতে পারে, বাকি ৪০ শতাংশের লুকানো ব্যাকটেরিয়া ও খাদ্যকণা দাঁতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ফাঁকে জমে থাকে।
জীবনধারা ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দন্তচিকিৎসক ও দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ১ মিনিটের ডেন্টাল ফ্লসিং বা সুতো দিয়ে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার অভ্যাস কেবল ‘ক্যাভিটি’ বা ক্ষয় প্রতিরোধ করে না, বরং এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুস এবং শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস
নিউ ইয়র্ক সিটির প্রখ্যাত বোর্ড-সার্টিফাইড পিরিওডনটিস্ট ও ডেন্টাল সার্জন ডা. আলবার্ট লেভিন বলেন, “দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক বা ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে মাড়িতে এক ধরনের জটিল প্রদাহ তৈরি হয়, যাকে ‘পিরিওডনটাইটিস’ বলা হয়।
এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো মাড়ির সূক্ষ্ম রক্তনালীর মাধ্যমে সরাসরি রক্তস্রোতে প্রবেশ করে। এগুলো ধমনীর ভেতরে প্লাক বা চর্বি জমতে প্ররোচিত করে রক্তনালীকে সরু ও শক্ত করে তোলে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ নামে পরিচিত।”
ডা. লেভিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত ফ্লস করার মাধ্যমে মাড়ির এই প্রদাহ দূর করলে, তা রক্তনালীর আটকে যাওয়া প্রতিহত করে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
ফুসফুসের সুরক্ষা ও শ্বাসযন্ত্রের ব্যাধি প্রতিরোধ
মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া কেবল রক্তেই ছড়ায় না, বরং রাতে শুয়ে থাকার সময় শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসেও প্রবেশ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ওরাল হেলথ ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক ডা. টিম ডোনলি ব্যাখ্যা করেন, “বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল বা যারা প্রবীণ, মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসে গিয়ে নিউমোনিয়া বা ‘ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ’-এর মতো মারাত্মক শ্বাসকষ্টের রোগ তৈরি করতে পারে।”
প্রতিদিন রাতে নিয়ম মেনে ডেন্টাল ফ্লস বা সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করলে মুখগহ্বরের ব্যাকটেরিয়ার ঘনত্ব অনেক কমে যায়, যা ফুসফুসের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও হরমোনের ভারসাম্য
ডা. টিম ডোনলি জানান, মাড়িতে কোনও সংক্রমণ বা দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ থাকলে, সেটা শরীরের সার্বিক ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্য দিকে, মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ও হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
গভীর ঘুম ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের শিথিলতা
দিনের তুলনায় রাতের বেলা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার একটি কারণ হল, লালা বা ‘স্যালাইভা’ উৎপাদন কমে যায়, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ।
ডা. আলবার্ট লেভিন বলেন, “দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে থাকলে রাতের শান্ত পরিবেশে মৃদু প্রদাহ তৈরি হয়, যা দিনের বেলা টের পাওয়া যায় না। এই মৃদু প্রদাহ প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে বাধা দেয়। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় গভীর ঘুম-এর স্তরে পৌঁছাতে পারে না।”
তাই মনে রাখতে হবে ঘুমানোর আগে ফ্লসিং বা সুতা দিতে দাঁত পরিষ্কার করলে শুধু দাঁত ও মুখগহ্বরই নয়, হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
পুরানো খবর:
[ad_2]
Source link