[ad_1]
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। সংঘর্ষ শেষের কোনও লক্ষণ নেই। এই কয়েকদিনে ইরানে হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। লেবাননেও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের একাধিক শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই লড়াইয়ের মেজাজে আছে। উপসাগরীয় দেশগুলোজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, নাম দিয়ে ইরানে যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, তা তেহরানের সামরিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে বলেই দাবি তাদের।
‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ব্যয় হয়েছে ৩৭০ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৮৯ কোটি ১০ লাখ ডলার খরচ হচ্ছে।
কোথায় দাঁড়িয়ে এই সংঘাত? গত একদিনে যা যা ঘটেছে তা তুলে ধরেছে আল-জাজিরা:
কী অবস্থা ইরানের?
অভিযান চলছে:
গত সপ্তাহের শনিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এখনও চলমান। সংঘাত ৭ দিনে গড়িয়েছে। হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ১,২৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা 'আকাশে প্রায় পূর্ণ আধিপত্য' অর্জন করেছে এবং ২,৫০০টি হামলায় ইরানের ৮০ শতাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
নেতৃত্বে উত্তরসূরি নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ:
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের পর তার ছেলে মোজতাবা খামেনির দায়িত্ব নেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছেন এবং পরবর্তী নেতা নির্বাচনে নিজের সরাসরি ভূমিকা থাকা উচিত বলে জানিয়েছেন।
আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্কতা:
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানি বাহিনী দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসেনার সম্ভাব্য আগ্রাসনের জন্য ‘অপেক্ষায়’ আছে। মার্কিন বাহিনী স্থলপথে আক্রমণ করলেই হাজার হাজার সেনাকে হত্যা এবং বন্দি করা হবে।
ইরানের হামলার হার কমেছে:
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ কমে গেছে।
ইসরায়েলের ৫০ টি যুদ্ধবিমান হামলা:
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ইরানে নতুন করে দফায় দফায় হামলা শুরু করেছে এবং ৫০ টি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়ে তেহরানে একটি সামরিক কমান্ড বাঙ্কার ধ্বংস করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থা:
কুয়েত: কুয়েতে ইরানের হামলার পর মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে ইরান একাধিক হামলা চালিয়েছে। শুয়াইবা বন্দরে ড্রোন হামলায় ৬ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় যাত্রী টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন কর্মচারী আহত হয়। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকিয়েছে।
বাইরাইন:
বাহরাইনের একটি রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কাতার ও আরব আমিরাত:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২০ টিরও বেশি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। ওদিকে, কাতার বৃহস্পতিবার দফায় দফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হওয়ার কথা জানিয়েছে। রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।
উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া:
মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন নাগরিক প্রস্থান করেছে। আমিরাত থেকে নাগরিকদের উদ্ধারে যাওয়া একটি ফরাসি বিমান ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরায়েলের কি অবস্থ?
তেল আবিবে হামলা:
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলে এ পর্যন্ত ১২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ জন নিখোঁজ এবং প্রায় ২,৮০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তেল আবিবে অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও জেরুজালেন, বেনি ব্রাক, হাইফা, রামাত গান-সহ একাধিক শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘর্ষের শুরুতে বেইত শেমেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ৯ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েল জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান বন্ধ করে দিয়েছে এবং শুক্রবারের জুমার নামাজও বাতিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
সামরিক হামলা:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনট্রাল কমান্ড বলেছে, গত ৭২ ঘন্টায় ইরানের প্রায় ২০০ টি নিশানায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার এবং নৌ-জাহাজও আছে।
ট্রাম্পের দাবি:
ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তা এমন মাত্রায় যা এর আগে কেউ কখনও দেখেনি। ইরানের কোনও বিমান বাহিনী বা আকাশ প্রতিরক্ষা অবশিষ্ট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসে ভোট:
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে ২১৯-২১২ ভোটে (যুদ্ধ থামানোর পক্ষে ২১২ ভোট আর যুদ্ধ চালানোর পক্ষে ২১৯ ভোট) জয় পেয়েছেন রিপাবলিকানরা, যার ফলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আইনি সমর্থন বজায় রইল।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
চলমান সংঘাত আর্থিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে, ডাও জোন্স সূচক কমেছে ১,০০০ পয়েন্টের বেশি।
ইরানে কেবল প্রথম দিনের হামলাতেই ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিদিনই কয়েক হাজার কোটি ডলার এই সংঘাতের পিছনে খরচ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরাক, লেবানন ও মিশর:
ইরাকে হামলা:
বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে ইরাকি বাহিনী। ইরানের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
তাছাড়া, ইরান-ইরাক সীমান্তে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ইরান-বিরোধী কুর্দিদেরকে লড়াইয়ে নামাতে চাইছে এমন খবরের মাঝে এই গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরানের হামলা জোরদার হয়েছে।
লেবানন:
ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও বেকা উপত্যকায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে এবং বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মিশরের সতর্কতা:
মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকায় দেশটিতে অর্থনৈতিকভাবে ‘জরুরি অবস্থা’র মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ:
ইউরোপে বিভক্তি:
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সামরিক সম্পদ মোতায়েন করলেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস কেবল কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে।
সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আজারবাইজান:
ইরানের ড্রোন হামলায় ৪ বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পর আজারবাইজান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং পাল্টা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
[ad_2]
Source link