[ad_1]
আবাসনে নতুন পরিকল্পনা দরকার
আজকের আয়োজনে ‘আবাসন খাতের পুনর্বিন্যাস: নীতি, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সমাপনী অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিয়েল এস্টেট বিভাগের প্রধান আমির আহমেদ। সেই অধিবেশনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় অভিবাসী হয়ে যাঁরা প্রতিদিন আসছেন, তাঁদের বড় অংশ দরিদ্র। তাঁরা শহরের উপকণ্ঠে থাকছেন। পরিকল্পনা ও কমপ্লায়েন্স না থাকার কারণে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে যাবে না। তবে সাভার, গাজীপুর কিংবা মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকাকে সম্প্রসারণের সুযোগ আছে।
একই অধিবেশনে রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি তানভীরুল হক প্রবাল বলেন, ‘আমরা যশোর, রংপুরের মতো জায়গায় কাজ করছি। ঢাকার বাইরে আবাসন প্রকল্প করতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে পরিবেশবান্ধব ভবনগুলো বড়লোকদের ভবন হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য পরিবেশবান্ধব ভবন করতে হলে সরকারকে ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিতে হবে।’
কৃষিজমি বাঁচাতে ৪০-৫০ তলা ভবন নির্মাণ ছাড়া উপায় নেই বলে মন্তব্য করেন ট্রপিক্যাল হোমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ রবিউল হক। তিনি বলেন, ৩০০ ফুট সড়ক থেকে নরসিংদী এবং বুড়িগঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত সব জমি বিক্রি শেষ। তার মানে সেখানকার কৃষিজমি শেষ। অথচ ঢাকার ভেতরে ভবনের উচ্চতা ৭-৮ তলা। এসব ভবন ৪০-৫০ তলা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে এত কৃষিজমি নষ্ট হতো না।
নতুন পরিকল্পনা হিসেবে ঢাকা শহরের বিদ্যমান ভবন পুনর্গঠন বা মানোন্নয়নের ওপর জোর দেন স্পেসজিরো লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকতে চাই। বিদ্যমান যে শহর, সেটি নিয়েও পরিকল্পনা করতে হবে। আবাসন খাতের পুনর্গঠনে বিদ্যমান ভবনগুলো বড় সম্পদ।’
অধিবেশনে এবিসি রিয়েল এস্টেটের এমডি শ্রাবন্তী দত্ত বলেন, সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও ক্রেতার লগ্নি করা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা, আইনগত কাগজপত্রের স্বচ্ছতার অভাব, নির্মাণ ব্যয় কমাতে ভবনের মানের সঙ্গে আপস করার কারণে আবাসন কোম্পানি ক্রেতাদের আস্থা হারায়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ক্রেতাদের বুঝতে হবে কোন কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট কিনবেন। সে জন্য ক্রেতাদেরও জানাশোনা থাকতে হবে।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘আবাসন খাতের কিছু মৌলিক বিষয় সংস্কার করতে হবে। ৩০ দিনে ভবনের নকশা পাস হওয়ার কথা থাকলেও ২ বছরেও তা হচ্ছে না। উন্নত বিশ্বে ৪ শতাংশ সুদে গৃহঋণ পাওয়া যায়। অথচ আমাদের দেশে গৃহঋণের সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ। এই সুদহারে রাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন। তা ছাড়া নিবন্ধন খরচও এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বেশি।’
[ad_2]
Source link